দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-কে হারাবেন আর তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য্য়য়ের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েই। টুইটারে এই বার্তা দিলেন সপা প্রধান অখিলেশ যাদব। আজই লখনউ পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কাল লখনউয়ে সমাজবাদী পার্টি দফতরে অখিলেশ যাদবের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগে এদিন সন্ধেয় উত্তরপ্রদেশে পৌঁছন মমতা। আর তাঁর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেই টুইট করলেন অখিলেশ। 

পরপর দুটি টুইট করেন অখিলেশ যাদব। প্রথম টুইটটিতে দেখা যায় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সেখানে আরও নেতা-কর্মীরা রয়েছেন। আর দ্বিতীয় টুইটে দেখা যায়, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ফুল তুলে দিচ্ছেন। আর সেখানেই লেখা, ‘বাংলায় একসঙ্গে লড়াই করে হারিয়েছিলাম। দিদির কাছে আমার প্রতিজ্ঞা আমরা জিতবই। উত্তরপ্রদেশে দিদিকে স্বাগত ও অভিনন্দন।’

প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটে কোনও প্রার্থী দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন লখনউ উড়ে যাওয়ার আগে  তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশে আমরা লড়ছি না। অখিলেশ যাদব আমায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অখিলেশের সমর্থনে প্রচার করতেই উত্তরপ্রদেশে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষের ওর ওপর ভরসা আছে। আমি চাই ও জিতুক।’

২০২১ সালে তৃতীয়বারের জন্য নবান্ন দখলের পর থেকেই ভিন রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেছে তৃণমূল। সেই সূত্রে ত্রিপুরার পুরভোট তো বটেই, গো‌য়া বিধানসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করছে জোড়াফুল। এ বার উত্তরপ্রদেশের ভোটেও ভূমিকা নিতে চলেছে তৃণমূল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সমাজবাদী পার্টির হয়ে ভোটপ্রচারে লখনউ সফরে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

করোনা সংক্রমণ রুখতে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে সভা সমাবেশ করা নিষিদ্ধ। তাই সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেবেন মমতা। এর পর মঙ্গলবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অখিলেশের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। 

২০২৪ এর লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে ইতিমধ্যেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তৃণমূল নেত্রী! বিজেপির বিরুদ্ধে সব শক্তিকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করছেন তিনি। আর এই অবস্থায় বাংলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের টার্গেটও ফিক্সড করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দিন কয়েক আগেই নেতাজি ইন্ডোরে দলের সাংগঠনিক নির্বাচন ছিল।

সেখানেই তিনি বলেন, অন্য রাজ্য যাওয়ার আগে ঘর মজবুত করতে হবে। ফলে সেখানে আরও অনেক বেশি কাজ করতে হবে। আর তা করতে গিয়ে নেতা-কর্মীদের ঝগড়া না করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বাংলায় বিজেপির শক্তি বাড়ে এমন কাজ না করারও কথা বলেন নেত্রী। আর এরপরেই দলের নেতা-কর্মীদের কার্যত লোকসভায় টার্গেট আসন ফিক্সড করে দেন। বলেন, লোকসভায় বাংলায় ৪২-এ ৪২ আসন চাই। এর জন্য দ্বন্দ্ব না করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে হবে।

উল্লেখ্য,অখিলেশের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক বরাররই ভাল। কালীঘাটে মমতার বাড়িতে দেখাও করতে এসেছিলেন অখিলেশ। ২০২১ সালে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন জানিয়ে কোনও প্রার্থী দেয়নি সমাজবাদী পার্টি। তারই পাল্টা প্রতিদান আসন্ন বিধানসভাতেই দিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই মমতা বলেছেন, “আমরা অনেক রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। উত্তরপ্রদেশে লোকসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। অখিলেশকে সমর্থন করতে আমি ইউপি যাচ্ছি। লোকসভায় আমি লড়ব। এখন চাই অখিলেশ লড়ুক।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here