


আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে দেশজুড়ে। তাঁর জন্মদিবসকে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি এই মহান মনীষীর জন্ম হয়। সন্ন্যাস গ্রহণের আগে তাঁর নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। দক্ষিণেশ্বরের কালীবাড়িতে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ভারতীয় বেদ ও বেদান্তের দর্শনকে পাশ্চাত্য দুনিয়ায় প্রচার করেছিলেন স্বামীজি। দীর্ঘদিন পরাধীনতার অন্ধকারে থাকা জাতিকে বিবেকানন্দ মহিমান্বিত করে তোলেন। ১৮৯৩ সালে শিকাগোয় বিশ্বধর্ম সম্মেলনে হিন্দু ধর্মের গরিমার কথা তুলে ধরেন তিনি। মানুষের সেবায় ব্রতী হয়ে পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রতিষ্ঠা করেন।

আজ স্বামীজির বাড়ি সিমলা স্ট্রিট থেকে শুরু করে বেলুড় মঠ- নানা জায়গায় সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী। ভক্তি ও শ্রদ্ধার অদ্ভুত মিশেল দেখা গিয়েছে। ভোরে রামকৃষ্ণদেবের মঙ্গলারতির মাধ্যমে বেলুড়ে স্বামীজির জন্মবার্ষিকীর উদযাপন পালন শুরু হয়।

বেলুড়ে আজ সকাল থেকেই স্বামীজির বিশেষ পুজো-অর্চনা করা হচ্ছে। দিনভর রয়েছে নানা অনুষ্ঠান, ধর্মসভা। স্বামীজির জন্মদিবসকে যুব দিবস হিসাবেও পালন করা হয়। ৪২ তম যুব দিবস উপলক্ষে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন সংগঠনের তরফ থেকে বিশেষ শোভাযাত্রা আসে বেলুড় মঠে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল থেকেও পডুয়াদের নিয়ে প্রভাতফেরী ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই শোভাযাত্রাগুলিও বেলুড় মঠে এসে পৌঁছেছে।

যুব দিবসে জানুন স্বামীজির কয়েকটি অমোঘ উক্তি, যা আপনার জীবন বদলে দেবে
স্বামী বিবেকানন্দের বাণী
নিজের প্রতি সত্ থাকা, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাই সবচেয়ে মহান ধর্ম।
চিন্তাই আমাদের তৈরি করেছে, তাই কি নিয়ে চিন্তা করছ তার দিকে খেয়াল রাখো। শব্দ পারে না, কিন্তু চিন্তা বহুকাল জীবিত থাকতে পারে।

জীবনে সব থেকে বড় সাফল্য, সব থেকে বড় আনন্দের রহস্য এই যে কাজের কোনও প্রত্যাশা না রাখা। সম্পূর্ণ স্বার্থহীন মানুষই জীবনে সব থেকে সফল।

ঈশ্বর আদি-অনন্ত। তা সত্ত্বেও মানুষ একটা ছোট্ট বইয়ের মধ্যে তাঁকে ধরানোর চেষ্টা করে। এর থেকে ন্যাক্কারজনক আর কিছুই হতে পারে না, যদি কেউ এটা বলেন যে কোনও একটি বইয়ে ঈশ্বরের সমস্ত জ্ঞান বর্ণিত রয়েছে।

অসংখ্য বই রয়েছে, কিন্তু আমাদের কাছে সময় খুবই অল্প। তাই যেটা দরকার সেটা সঙ্গে নিয়ে চলো। সেই জ্ঞানকে জীবনের পাথেয় করো।

যাঁরা তোমায় সাহায্য করেছে, তাঁদের কখনও ভুলে যেও না। যাঁরা তোমাকে ভালোবাসে, তাঁদের কোনও দিন ঘৃণা করো না। আর যাঁরা তোমাকে বিশ্বাস করে, তাঁদের কখনও ঠকিয়ো না।

উঠে দাঁড়াও, শক্ত হও, দৃপ্ত হও। যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে নাও। আর এটা সব সময় মাথায় রেখো, তুমিই তোমার নিয়তির স্রষ্টা। তোমার যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন, সবটা তোমার মধ্যেই রয়েছে। সুতরাং নিজের ভবিষ্যত্ নিজেই তৈরি করে নাও।




