হীয়া রায়,দেশের সময়

বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ও নেটমাধ্যম। ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের সংখ্যাও বাড়ছে। যা ছিল এক সময় যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবন্ধ তা ব্যবহারে ধীরে ধীরে উৎসাহ পাচ্ছেন বয়স্ক নাগরিকরা।

তবে এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় না বুঝেই প্রতারণার ফাঁদে পা গলিয়ে কখনও কখনও বড় বিপদ ডেকে আনছে সাধারণ মানুষ। কখনও দুষ্কৃতীদের খপ্পরে সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন কখনও আবার অন্য কোনও ভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র।

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মোটা অর্থের টোপ দেখিয়ে অঙ্গ পাচারের কারবার চলছে। বিষয়টি নজরে এসেছে কেন্দ্রের। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জাল বিস্তার করে রয়েছে অঙ্গ পাচারকারীরা। এবার তা নিয়ে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ও রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রের নজরে এসেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষের অঙ্গ পাচারের মতো অবৈধ ব্যবসায় জড়িত একদল লোক ফাঁদ পেতে বসে রয়েছে। সেই ফাঁদে যাতে আমজনতা কোনও ভাবেই পা দেন তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে আহ্বান জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময় একাধিক ওয়েবসাইটে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গ বিক্রির পরিবর্তে বিপুল অর্থের টোপ দিচ্ছে অবৈধ এই কর্মকাণ্ডে জড়িত একদল পাচারকারী। বিষয়টি নজরে এসেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের।

ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অঙ্গ পাচার সংক্রান্ত কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নজরে এসেছে। অঙ্গ পাচারে মানুষকে প্রলুব্ধ করতে চাওয়া এই পোস্টগুলির মাধ্যমে মানব শরীরের অঙ্গ ও টিসু পাচার আইন (THOTA) ১৯৯৪ লঙ্ঘিত হয়েছে। কর্নাটকের একটি জনপ্রিয় হাসপাতালের নামে প্রকাশিত একটি পোস্টে নির্দিষ্ট প্যারামিটারের সঙ্গে মিলে যাওয়া একটি কিডনির জন্য পাঁচ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এমন ঘটনাও নজরে এসেছে।

এই ধরনের পোস্টগুলির ওয়েব লিঙ্ক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি শেয়ার করে নিয়মিত কেন্দ্রের তরফে সতর্ক করে জানানো হচ্ছে এই ধরনের ক্রিয়াকলাপগুলি আইনের চোখে দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে পা দেবেন না। কেউ এই ধরনে বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত রয়েছে প্রমাণিত হলে ২০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে, এমনকী পাঁচ থেকে দশ বছর জেলও হতে পারে। সূত্রের খবর, এই ধরনে বেআইনি কার্যকলাপ জাতীয় অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্মসূচিতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অঙ্গ পাচারের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে রাজ্যগুলির। আর তাই এই অঙ্গ পাচার সংক্রান্ত এই ধরনের বেআইনি ব্যবসা বন্ধ করতে, মানুষকে সচেতন করতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এই বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে অনুরোধ করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। অঙ্গ বিক্রির এমন কোনও প্রলোভনে যাতে সাধারণ মানুষ পা না দেন তার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন এজেন্টদের মাধ্যমে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির টোপে যাতে মানুষ পা না দেন সেজন্য জনগণের মধ্যেও সচেতনতার বার্তা আরও বেশি করে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here