দেশের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রবিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে শপথ নিয়েছিলেন ৭১ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তার পর থেকেই শুরু হয় জল্পনা, কাকে কোন মন্ত্রক দেওয়া হবে? সোমবার সন্ধ্যা হতেই স্পষ্ট হল। ৭১ জন মন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মোদী। তার পরেই কাকে কোন মন্ত্রক দেওয়া হয়েছে, তার তালিকা প্রকাশিত হয়।

গতকাল রাষ্ট্রপতি ভবনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শপথ নিয়েছেন ৭১ জন মন্ত্রী। কিন্তু কে কোন দফতর পাবেন, তখনও জানানো হয়নি। এবারে নরেন্দ্র মোদী সরকারে জায়গা হয়েছে একাধিক শরিক দলের। বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার সুবাদে আবার জোট সরকারে গুরুত্ব পাচ্ছেন তেলুগু দেশম পার্টি, জেডি(ইউ), হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা, একনাথ শিন্ডের শিবসেনার মত একাধিক আঞ্চলিক দল। পাশাপাশি, মোদীর পরে অমিত শাহের জায়গায় ‘নাম্বার টু’ হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাজনাথ সিংহ। সন্ধ্যেয় একের পর এক মন্ত্রীর পোর্টফোলিও ঘোষণা করেছে বিজেপি।

প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকছে কর্মিবর্গ, জনঅভিযোগ, পেনশন মন্ত্রক। পাশাপাশি, পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ বিভাগ মন্ত্রকও থাকছে মোদীর হাতে।

পূর্ণমন্ত্রী
রাজনাথ সিংহ:
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পুরনো পদ ধরে রাখলেন।

অমিত শাহ:
রেকর্ড ভোটে জিতে নিজের পুরনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেই ফিরলেন অমিত। 

জগৎপ্রকাশ নাড্ডা:
বিজেপি সভাপতি থেকে মন্ত্রীত্বে উঠে আসা নাড্ডা পেলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক, পাশাপাশি দেওয়া হল রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের দায়িত্ব। 

এইচ ডি কুমারস্বামী:
জোট-স্বার্থে কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উঠে এসেছেন মন্ত্রীত্বে। পেলেন ভারি শিল্প ও ইস্পাত মন্ত্রক।

নীতিন গড়করী:
সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক ধরে রাখলেন। 

এস জয়শঙ্কর:
ফিরলেন নিজের পুরনো বিদেশমন্ত্রীর পদে। মন্ত্রীত্ব পাওয়ার আগেই আজ নয়াদিল্লির পাঁচতারা হোটেলে বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনার সঙ্গে।

শিবরাজ সিংহ চৌহান:
এবারের মন্ত্রীসভায় নয়া সংযোজন। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পেলেন কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রক, পাশাপাশি দেওয়া হল পঞ্চায়েতি রাজ ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব। 
মনোহরলাল খট্টর:
হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পেলেন শক্তি ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক।

নির্মলা সীতারামণ:
নিজের পুরনো অর্থমন্ত্রকেই ফিরলেন নির্মলা। 

জিতনরাম মাঁজি:
বিহারের মহাদলিত নেতা জিতনরামকে দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-উদ্যোগ মন্ত্রক।

কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইডু:
অন্ধ্রপ্রদেশের তেলুগু দেশম পার্টির তরুণ নেতা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ও এমবিএ করে আসা ৩৬ বছরের নাইডুকে দেওয়া হয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।

অন্নপূর্ণা দেবী:
ঝাড়খণ্ডের এই বিজেপি নেত্রী পেয়েছেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক।

পীযুষ গোয়েল:
নিজের পুরনো বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রক ধরে রাখলেন মুম্বইয়ের সাংসদ ও পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পীযুষ। 

ধর্মেন্দ্র প্রধান:
জল্পনা ছিল, তিনি হয়ত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিন্তু মোদী সরকারে নিজের পুরনো শিক্ষামন্ত্রক ধরে রাখলেন ধর্মেন্দ্র। 

সর্বানন্দ সোনোয়াল:
অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পেলেন বন্দর, জাহাজ ও জলপথ পরিবহণ মন্ত্রক। 


বীরেন্দ্র কুমার:
সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। 

জুয়াল ওরাম:
ওড়িশার সুন্দরগড় থেকে জিতে আসা আদিবাসী মুখ জুয়াল ওরাম পেলেন আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রক।

প্রহ্লাদ জোশী:
তিনটি মন্ত্রক পেলেন। ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রক, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রক ও নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক। 
অশ্বিনী বৈষ্ণো:
নিজের পুরনো রেলমন্ত্রক ধরে রাখলেন। সঙ্গে পেলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক ও ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। 

গিরিরাজ সিংহ:
বস্ত্রমন্ত্রক পেলেন। 

জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া:
গ্বালিয়রের রাজপরিবারের সন্তান, প্রয়াত মাধবরাও সিন্ধিয়ার ছেলে, কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া জ্যোতিরাদিত্যকে দেওয়া হয়েছে উত্তরপূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রক।

হরদীপ সিংহ পুরী:
পুরনো পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ধরে রাখলেন।

 ভূপেন্দ্র যাদব:
জলবায়ু পরিবর্তন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু সম্মেলন-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা ভূপেন্দ্রকে নিজের পুরনো পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকেই ধরে রাখল মোদী সরকার।

গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াত:
যোধপুর থেকে সোয়া এক লক্ষ ভোটে জেতা গজেন্দ্রকে জল-শক্তি মন্ত্রক থেকে সরিয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রকে আনা হয়েছে। 

কিরেন রিজিজু:
দীর্ঘ এক দশক ধরে বিজেপির উত্তর-পূর্ব ভারতের মুখ কিরেন রিজিজুকে সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে।


মনসুখ মাণ্ডব্য:
গুজরাতের এই মন্ত্রীকে স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে সরিয়ে শ্রম ও কর্মনিয়োগ মন্ত্রক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পেলেন মনসুখ। ক্যাবিনেটে জায়গা পাননি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর।

জি কিষাণ রেড্ডি:
সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রক থেকে সরিয়ে সেকেন্দ্রাবাদের সাংসদ রেড্ডিকে দেওয়া হয়েছে কয়লা ও খনি মন্ত্রক।

চিরাগ পাসোয়ান:
রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগ এবার হাজিপুর থেকে জিতে এনডিএর অন্যতম জোটসঙ্গী। ইতিমধ্যেই তিনি নিজেকে নরেন্দ্র মোদীর একনিষ্ঠ ভক্ত হনুমান বলে ঘোষণা করে দিয়েছেন। ভোটে জেতার পর থেকেই মন্ত্রিত্বের আশায় দিল্লিতে মাটি কামড়ে পড়েছিলেন চিরাগ। পরিশ্রম বিফলে যায়নি। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রক পেয়েছেন চিরাগ। 

চন্দ্রকান্ত (সি আর) পাটিল: জল-শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্ব পেলেন। 


স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী 
রাও ইন্দ্রজিৎ সিংহ:
রেওয়াড়ি রাজপরিবারের সন্তান, গুড়গাঁওয়ের সাংসদ ইন্দ্রজিতকে তাঁর আগের দায়িত্বেই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এবারেও তিনি পরিসংখ্যান ও প্রকল্প রূপায়ণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রক ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের।

জিতেন্দ্র সিংহ:
জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুর থেকে নির্বাচিত, পেশায় চিকিৎসক জিতেন্দ্রকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রক, ভূবিজ্ঞান-মন্ত্রক, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়, কর্মিবর্গ, পাবলিক গ্রিভ্যান্স ও পেনশন মন্ত্রক, অণুশক্তি মন্ত্রক ও মহাকাশবিজ্ঞান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

অর্জুন রাম মেঘওয়াল:
কোভিড অতিমারির সময় ‘ভাবিজি পাঁপড়’ খাওয়ার দাওয়াই দেওয়া, বিকানিরের সাংসদ অর্জুন রাম মেঘওয়াল আইন ও সুবিচার মন্ত্রক ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

প্রতাপরাও গণপরাও যাদব:
একনাথ শিন্ডের শিবসেনার নেতা, মারাঠা নেতা প্রতাপরাও পেলেন আয়ুষ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর পদ। 

জয়ন্ত চৌধরী:
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও প্রাতঃস্মরণীয় জাঠ কৃষক নেতা চৌধরী চরণ সিংহের নাতি জয়ন্ত এবারে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে ক্যাবিনেটে জায়গা পেয়েছেন। তাঁর দল রাষ্ট্রীয় লোকদল এবার এনডিএতে যোগ দিয়েছে। লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সের ছাত্র জয়ন্তকে স্কিল উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক ও শিক্ষামন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  

প্রতিমন্ত্রী
জিতিন প্রসাদা:
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রক; সঙ্গে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ।

শ্রীপাদ যশ নায়েক:
শক্তি মন্ত্রক ও নবীন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক।

পঙ্কজ চৌধুরী:
অর্থমন্ত্রক। 

কৃষ্ণ পাল:
সহযোগিতা মন্ত্রক। 

রামদাস অঠবালে:
সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ মন্ত্রক

রামনাথ ঠাকুর:
কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন মন্ত্রক। 

নিত্যানন্দ রাই:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। 

অনুপ্রিয়া প্যাটেল:
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক; সঙ্গে রাসায়নিক ও সার মন্ত্রক।

ভি সোমান্না:
জল-শক্তি মন্ত্রক ও রেলমন্ত্রক।

কীর্তিবর্ধন সিংহ:
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক; সঙ্গে বিদেশমন্ত্রক।

বিএল বর্মা:
ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রক, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রক; সঙ্গে সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ মন্ত্রক।

শান্তনু ঠাকুর:
বন্দর, জাহাজ ও জলপথ পরিবহণ মন্ত্রক।

সুরেশ গোপী:
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস; সঙ্গে পর্যটন মন্ত্রক। 

সুকান্ত মজুমদার:
শিক্ষামন্ত্রক ও উত্তরপূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রক

কমলেশ পাসোয়ান:
গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক

সতীশচন্দ্র দুবে:
কয়লা ও খনি মন্ত্রক।

সঞ্জয় শেঠ:
প্রতিরক্ষামন্ত্রক।

জর্জ কুরিয়েন:
সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রক; সঙ্গে মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধজাত দ্রব্য মন্ত্রক। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here