হীয়া রায়

দেশের সময় পূরণ হয়নি টার্গেট। ৪০০ পার তো দূর অস্ত, ৩০০ আসনও পেল না বিজেপি। কোনওমতে টেনেটুনে ম্যাজিক ফিগার পার করেছে NDA। তা সত্ত্বেও তৃতীয়বার সরকার গঠনের ঘোষণা করল বিজেপি। ফলপ্রকাশের পর নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বরণ করে নেওয়া হল নরেন্দ্র মোদীকে। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জয়ের উদযাপন করল পদ্ম শিবির।

মোদীবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

এদিন বলেন, ‘আপনাদের আশীর্বাদের জন্য ধন্যবাদ। আজ বড় মঙ্গলের দিন। দেশবাসী বিজেপি তথা NDA-র উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখেছেন। আজকের এই জয় দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের জয়। ভারতের সংবিধানে অটুট নিষ্ঠার জয় এটি। বিকশিত ভারতের অঙ্গীকারের জয়। সবকা সাথ, সবকা বিকাশের জয়। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জয় এটি।’ পাশাপাশি তাঁর অঙ্গীকার, ‘আমি সম্পূর্ণ নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে সরকার চালাব। সংবিধান আমাদের পাথেয়। বিকশিত ভারতের জন্য, ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এটি। এখন থামার সময় নয়। এগিয়ে চলার সময়।’

বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে ভোটের ফল নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, “দেশের জনগণ এনডিএ-কে তিন বার সরকার গড়ার রায় দিয়েছে। এর জন্য দেশবাসীর কাছে আমি ঋণী। এটা দুনিয়ার সবথেকে বড় গণতন্ত্রের জয়। এটা ভারতের সংবিধানের জয়। এটা বিকশিত ভারতের জয়। এটা সবকা সাথ সবকা বিকাশ মন্ত্রের জয়। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জয়।”

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়েও উচ্ছ্বসিত নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের সবথেকে বড় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সফল ভাবে চালানোর জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা গোটা বিশ্বের কাছে উদাহরণ বলে জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনী ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের জন্য জম্মু ও কাশ্মীরবাসীকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকলের সাহায্যেই ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা সফল। বিজেপির কর্মী সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানালেন মোদী।

মোদী বলেন ,১৯৬২ সালের পর এই প্রথমবার কোনও সরকার পর পর তিনবার ক্ষমতায় এল। যা এনডিএ সরকারে কৃতিত্ব।

ওড়িশায় বিজেপির সরকার গঠন হবে। জগন্নাথভূমে বিজেপির এই সাফল্য নিয়ে খুশি গোপন করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেরলে আসন পাওয়া ও ভোট বাড়ানোর বিষয়ও উল্লেখ করেছেন। বিহারে নীতীশবাবুর নেতৃত্বে জয় এসেছে। অন্ধ্র প্রদেশে চন্দ্রবাবুর নেতৃত্বে দারুণ ফল এসেছে।

এই ফল বিকশিত ভারতের জয়। আমার মা মারা যাওয়ার পর এটা ছিল প্রথম ভোট। কিন্তু ভোটের প্রচারে গিয়ে কোটি কোটি মা, বোনদের যে আশীর্বাদ পেয়েছি, তাতে মায়ের অভাব অনুভূত হয়নি। এনডিএ-র পাশে থাকার জন্য জনতা জনার্দনকে প্রণাম জানাই।

স্বাধীনতার ৭০ বছর পর দেশের কোটি কোটি গরিব বিনামূল্যে রেশন পেয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পেরেছে। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। আমরা রাষ্ট্রকে প্রথমে রেখেছি। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সবার আগে বলেই এই পরিষেবা সম্ভব হয়েছে।

বিজেপি-র নেতাকর্মী, দেশবাসীকে বলব, এত গরমে আপনারা যে ঘাম ঝরিয়েছেন, তা মোদীকে নিরন্তর কাজ করার প্রেরণা দেবে। আমি আরও বলতে চাই, “আপনি ১০ ঘণ্টা কাজ করলে, মোদী ১৮ ঘণ্টা কাজ করব। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এনডিএ সরকারের তৃতীয় দফায় দেশকে বড় সিদ্ধান্তের নতুন অধ্যায় লিখবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।”

তাঁর সরকারের তৃতীয় দফায় কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন মোদী। বীজ থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থা দিয়ে কৃষকদের সহায়তার ঘোষণা শোনা গেল মোদীর বক্তব্যে। এর পাশাপাশি ভারতকে তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতি বানানোর জন্য মোদী সরকার পুরোদমে কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কোভিড টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত যে ভাবে কাজ করেছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ভারতীয় চন্দ্রযান যেভাবে পৌঁছেছে। সেই সব সাফল্যের খতিয়ান আরও এক বার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রসঙ্গও এ দিন শোনা গিয়েছে মোদীর কথায়।

গত দশ বছরে এনডিএ সরকারে আমলে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার বিকাশ হয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার বিকাশের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি অনেকাংশে আটকানো সম্ভব হয়েছে।

বিজেপির কাছে দলের আগে দেশ। দেশের কথা আগে ভাবে বলেই বিজেপি সেবা ধর্ম নিয়ে চলতে পারে। পুরো ক্ষমতা দিয়ে দেশের সেবা করে যাবে আগামী পাঁচ বছর।

আগামী বছর সংবিধানের ৭৫ বছর পূর্তি হবে। এই সন্ধিক্ষণে দেশের সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এনডিএ সরকার। বিভিন্ন রাজ্যে যে দলেরই সরকার থাকুক না কেন, তাতে কিছু এসে যায় না। আমরা এক সঙ্গে কাজ করে দেশের সেবা করব। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এটা গণতন্ত্রের শক্তি। নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here