তৃণমূল নেতারা বারবার বলছেন ভরসা রাখার কথা। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তো পরিষ্কার বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী যে ব্যখ্যা দিয়েছেন তার উপর ভরসা রাখুন।” মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও বসতে চলেছেন চাকরিহারারা। ৭ তারিখ বৈঠকে বসবেন বলে আগেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, তার আগেই বড় কর্মসূচি নিয়ে ফেললেন চাকরিহারারা। পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চের ডাক দিয়ে দিল নবান্ন অভিযানের। বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চের। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে আগামী ২১ এপ্রিল নবান্ন অভিযান করবে তারা।
বস্তুত, ২০১৬ এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দিয়েছিল। এর ফলে চাকরি হারান ২৫ হাজার ৭৫৩ জন।
এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। এছাড়া আলাদা করে মামলা করে রাজ্যের শিক্ষা দফতর, এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদও। দফায় দফায় মামলা করেন চাকরিহারারাও। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট চাকরি বাতিলে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় দেয় শীর্ষ আদালত। আর সেই কারণেই নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে ঐক্য মঞ্চ।

এদিন সম্মেলন করে মঞ্চের নেতৃত্বের তরফে বলা হয়, কয়েকটি সংগঠন ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে। আগামীতে তারাও এই মঞ্চে শামিল হবে বলেই আশাবাদী তাঁরা।

চাকরিহারারা স্পষ্ট করে বলে দেন, “এর আগেও আমরা একাধিকবার সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি নিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের কোনও সদর্থক ভূমিকা দেখতে পাইনি। আমরা ভেবেছিলাম মুখ্যমন্ত্রী মানবিক। কিন্তু উনি অমানবিক মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের সদিচ্ছার অভাবে চাকরি হারিয়েছেন শিক্ষক শিক্ষকা ও শিক্ষা কর্মীরা। আমারও এই বঞ্চনার শিকার। আমরা আর প্রতিশ্রুতি নয়, স্পট বার্তা চাই, বাস্তবায়ন চাই।”

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য এদিন কার্যত ডেডলাইনও দিয়ে দিয়েছেন চাকরিহারারা। সাফ বলছেন, “পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি মঞ্চের সঙ্গে বসে যদি আলোচনা না করেন, সমস্যার সুষ্ট সমাধান না করেন তাহলে আমাদের এই কর্মসূচি বহাল থাকবে।” খানিক আক্ষেপের সুরেই এদিন তাঁরা বলেন, “আমরা এখনও মুখ্যমন্ত্রীর উপরে আস্থা রেখেছি। আর কত দিন! আমরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, সে কারণে আমাদের প্রত্যেকটা দিন ভয়ের মধ্যে দিয়ে কাটাতে হয়। আমরা বেকার ভাতা চাই না।”