Mamata Banerjee ‘আমার মোবাইলে ছবিটা তোলা আছে’! ১৯১২ সালের ১০ টাকার নোটে বাংলা লেখা থাকত ,কেন্দ্রকে অতীত মনে করালেন মমতা

0
334

‘না জেনে ফর্ম ফিল-আপ করবেন না’, রাজ্যবাসীকে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকারের চালাকি’ বোঝালেন মমতা, রাজনীতি সরিয়ে আওড়ালেন আবেগের রবীন্দ্রনাথ-নজরুল

এনআরসি, ভোটার তালিকা এবং ভিন রাজ্যে বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ, বিগত কয়েকদিনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ঝাঁঝাল আক্রমণে বারে বারে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্র যাই করতে চাক, বিজেপি যাই করতে চাক না কেন, মানুষের উপর হেনস্থা তিনি বরদাস্ত করবেন না কোনওভাবে। এতদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবারেও সেই বার্তা দিলেন, সঙ্গে আওড়ালেন বাঙালির  আবেগের রবীন্দ্রনাথ-নজরুল। মনে করালেন বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, যতই অত্যাচার নেমে আসুক, পরিকল্পনা যত ভয়াবহই হোক না কেন, যে কোনও পরিস্থিতিতে আগলে রাখবেন তিনি। রাজ্যবাসীকে মনে করালেন, ‘সব দেবেন, নিজের ঠিকানা দেবেন না, ভাষা দেবেন না, অস্তিত্ব দেবেন না।‘ 

বৃহস্পতিবার বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপনের মঞ্চে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একদিকে যেমন মনে করালেন তাঁর জমানায় রাজ্যের মানুষের জন্য সরকারের একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা, তেমনই মনে করালেন, বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ, অকারণ রোহিঙ্গা দেগে দেওয়া, ভোটার তালিকা নিয়ে চালাকি করা মেনে নেবেন না তিনি।

বিজেপি  বাংলা ভাষা এবং সেই ভাষায় কথা বলা নাগরিকদের ক্রমাগত অপমান করছে বলে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই ইস্যুতে মিছিল করেছেন, বৃহত্তর প্রতিবাদের ডাকও দিয়েছেন। এদিনের সভা থেকে বাংলা ভাষা ইস্যুতে বিজেপি তথা কেন্দ্রকে অতীত মনে করালেন মমতা।

বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন – বাংলা আদতে কোনও ভাষা নয়! এর বিরোধিতায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল। এদিনের ঝাড়গ্রামের সভা থেকে সেই ইস্যুতেই ফের মুখ খুলে বিজেপিকে অতীত টেনে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মনে করান ১০ টাকার নোটের কথা ।

মমতা দাবি করেছেন, ১৯১২ সালের ১০ টাকার নোটে বাংলা লেখা থাকত। সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মোবাইলে ছবিটা তোলা আছে। ১৯১২ সালের ১০ টাকায় বাংলা লেখা। আর এই অপদার্থরা ২০২৫ সালে এসে বলছে বাংলা কোনও ভাষা নয়!’ এও প্রশ্ন করেন, ‘বাংলা ভাষা বলে কোনও ভাষা না থাকলে কোন ভাষায় জাতীয় সঙ্গীত লেখা? রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ কোন ভাষায় কথা বলতেন?’

বিগত কয়েক মাসে একাধিক রাজ্যে বাংলা ভাষী মানুষের ওপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।  ঝাড়গ্রামের সভা থেকেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার প্রায় ২ হাজার মানুষের ওপর বাইরের রাজ্যে অত্যাচার হচ্ছে। বাংলায় কথা বললেই বলা হচ্ছে রোহিঙ্গা। মমতার অভিযোগ, এখন অত্যাচার চলছে আর ভোটের সময় এসে বলবে , টাকা নাও, ভোট দাও। এ জিনিস তাঁরা কিছুতেই মানবেন না। 

গ্রামীণ আবাস যোজনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই এদিনের গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বলেন মমতা। গ্রামীণ আবাস যোজনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, তৃণমূল জমানায় সরকার প্রায় ৪৭ লক্ষ বাড়ি দিয়েছে, নতুন আরও ১২ লক্ষ বাড়ি দিয়েছে, তালিকায় আরও ১৬ লক্ষ। যাঁদের তালিকায় নাম রয়েছে,  তাঁরা ডিসেম্বরে অর্ধেক বাড়ির টাকা পেয়ে যাবেন, আবার মে মাসে পাবেন বাকিটা। কেউ বাকি থাকবেন না বাংলায়। ৭৫ লক্ষ বাড়ি করার ব্যবস্থা হয়েছে। বাকি করে দেবে। ঠিক তার পরেই মমতা বলেন, ‘কেউ যদি বলে আমাদের এখানে ফর্ম ফিল-আপ করুন, আমরা দেব, না জেনে ফর্ম ফিল-আপ করবেন না, আপনার ডিটেলস নিয়ে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দিয়ে দেবে। বলবে এই নাও এনআরসি-র নোটিস নাও।‘ জানিয়ে দেন ‘আদিবাসি, তফশিলি, দলিত, হিন্দু, মুসলমান, শিখ-এনটাইটেলড যাঁরা, নাম তুলতে হবে সকলের।

রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘কেন্দ্রের পরিকল্পনা রয়েছে। যাঁরা ভাবছেন তাঁদের এপিক কার্ড আছে, আর কিছু করতে হবে না। নিয়মটাই বদলে দিয়েছে। নতুন করে আবার নাম তোলার চক্রান্ত চলছে। ভোটার লিস্টে নাম আছে কি না, আগের লিস্ট দেখলে হবে না। নতুন করে নাম তুলতে হবে।‘ ২০০২ সাল পর্যন্ত যাঁদের জন্ম হয়েছে, বাবা-মায়ের জন্ম-শংসাপত্র চাইছে,  সময়ের হিসেব করে প্রশ্ন করেন, ওই সময়ের কতজনের কাছে রয়েছে জন্ম-শংসাপত্র? 

নয়া আইন প্রণেতা, এক কথায় কেন্দ্রকে চরম কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন- ‘যাঁরা বলছেন, তাঁদের আছে তো। যাঁরা আইন করছেন, তাঁদের আছে তো? তাঁরা সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছেন। তাঁরা কী করবে বুঝবেন খেটে খাওয়া মানুষের কথা?’ 

‘বাংলা ভাষা বলে কোন ভাষা নেই’, গিত কয়েকদিনে চরম বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মমতা। সোজা প্রশ্ন, তাহলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন ভাষায় কথা বলতেন? মন্তব্যকারীদের ‘অপদার্থ’ অ্যাখ্যা দিয়ে মমতার আফশোস, রাজ্যের প্রশাসনিক পদে থাকার জন্য, বহু ক্ষেত্রে ‘নীরবে’ সয়ে যেতে হয় তাঁকে।

গুরগাঁও-রাজস্থান-অসম-মধ্যপ্রদেশ, যেখানে যেখানে বাংলার মানুষের উপরের অত্যাচার চলছে, তার হিসেব দিয়ে, ‘ডবল ইঞ্জিন সরকারের চালাকি’ বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যবাসীকে। একইসঙ্গে মঞ্চে দাঁড়িয়ে একে একে আওড়ালেন বাঙালির আবেগের নজরুলের কবিতা, রবি ঠাকুরের গান।

Previous articleBJP২৬-এর প্রস্তুতি শুরু , বনগাঁ সহ চার সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা বিজেপি-র
Next articleIchhamoti River : বনগাঁ পৌরসভার উদ্যেগে ইছামতি নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু: দেখুন ভিডিও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here