মহাকুম্ভে ফের আগুন। গত ২৮ দিনে এই নিয়ে চতুর্থবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল মেলা চত্বরে। ইতিমধ্যে, এই আগুনের জেরে পুড়ে গিয়েছে একের পর এক তাঁবু। জানা গিয়েছে, সেক্টর ১৮ ও সেক্টর ১৯-এর মাঝেই ঘটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
শেষবারও এই সেক্টর ১৮-তে লেগেছিল আগুন। সেই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহের মধ্য়ে আবার দাউদাউ করে জ্বলে উঠল মহাকুম্ভের এই এলাকা। তবে কীভাবে ঘটল এই অগ্নিসংযোগ, সেই প্রসঙ্গে এখনও জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলের দিকে ধেয়ে আসে দমকল বাহিনী। আপাতত নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি। হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি বললেই চলে।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে শুধুই দমকল বাহিনীই নয়। এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে, জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলার দলও। জানা গিয়েছে, কোনও হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও, আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে তার জেরে জ্বলে যায় একের পর এক তাঁবু।
গত সপ্তাহেও শঙ্কারাচার্য মার্গে একই রকম লাগে আগুন। জ্বলে যায় মোট ২০টির কাছাকাছি তাঁবু। তখনই ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যায় ছুটে যায় দমকল বাহিনী। উল্লেখ্য, প্রয়াগরাজের বুকে এই মেলা শুরু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই লাগে প্রথম আগুন। মহাকুম্ভের একটি ব্রীজের নীচে রান্নার সিলিন্ডার ফেটে ঘটে অগ্নিসংযোগ। ভয়বহতা বাড়ে, ওই ঘটনার প্রভাব হিসাবে আরও কয়েকটি তাঁবুতে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ফাটলে।
প্রসঙ্গত, ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে মহাকুম্ভ মেলা। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে সেখানে শুরু হয়েছে নতুন করো তোড়জোড়। মহাকুম্ভ মেলা শেষের দিন যা ছিল তাই রয়েছে। তবে এরই মধ্যে নতুন বিপত্তি। মহাকুম্ভ মেলার দিন নাকি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন গুজবে তোলপাড় হয়েছে গোটা এলাকা।
প্রয়াগরাজের জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার জানিয়ে দিয়েছেন যারা এই ধরণের গুজব ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি একটি গুজব ছাড়া কিছুই নয়। নির্ধারিত দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে এই মেলা। এই মেলার দিন বৃদ্ধি করার কোনও কথা হয়নি। সরকার এবিষয়ে কোনও নতুন নির্দেশিকা জারি করেনি। ফলে এই গুজবে কান না দেওয়া ভাল।
কিছু মানুষ মহাকুম্ভ মেলায় গিয়ে এই ধরণের গুজব তৈরি করেছেন। তারা কী করতে চাইছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। সামাজিক মাধ্যমে এই ধরণের গুজব ছড়িয়ে দিয়ে সকলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই খবর মিলেছে। যারা ভক্ত এসেছেন তারা যেন এই ধরণের কোনও গুজবে কান না দেন সেদিকে নজর রাখতেই এই কাজ করা হয়েছে বলেই প্রসাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত মহাকুম্ভে প্রচুর মানুষ স্নান করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছেন। তাদেরকে আটকানোর জন্যেই এই ধরণের গুজব তৈরি করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। এবিষয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকার নতুন করে কোনও নির্দেশিকা জারি করেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মহাকুম্ভে ৪৮২.৯ মিলিয়ন ভক্ত এখানে স্নান করেছেন।
১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মহাকুম্ভ মেলা। এরপর টানা একমাসের বেশি সময় ধরে এই মেলা চলছে। শুধু ভারতবর্ষ নয়, বিদেশ থেকেও বহু ভক্ত এখানে এসে স্নান করেছেন। ৫৩ টি সোশ্যাল মি়ডিয়ার বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ সরকার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা সকলকে ভুল তথ্য পরিবেশন করেছিল। তাই এই ধরণের কোনও গুজব ছড়াতে নিষেধ করেছে প্রশাসন।
আসন্ন ২৬ তারিখ পর্যন্ত চলবে মহাকুম্ভ। হাতে পড়ে আর কয়েকটা দিন। আর সময় ফুরিয়ে আসায় এই অপরাহ্ন বেলাতেই যেন মহাকুম্ভে পুণ্যস্নানে ভিড় জমিয়েছেন বহু পুণ্যার্থী। সরকারি সূত্রে খবর, সকল রেকর্ড ভেঙে ইতিমধ্যে গত সপ্তাহ অবধি ৫০ কোটি পুণ্যার্থীর পুণ্য ডুব দিয়েছেন মহাসঙ্গমে।