সৃজিতা শীল কলকাতা

বাংলায় শেষ দফার নির্বাচন বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা দিয়েই শুরু হয়েছে। দফায় দফায় একাধিক জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসবের মধ্যেই তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপির বিদায় নিশ্চিত। মানুষ দলবদ্ধ হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ”উৎসবের মেজাজে ভোট হচ্ছে। আবহাওয়া তুলনায় ভাল থাকায় মানুষ বেশি করে বেরিয়ে ভোট দেবেন বলেই আশা করছি। শেষ ৫ বছরে বিজেপির অত্যাচারে মানুষ ক্ষুব্ধ। তার প্রতিফলন ঘটবে ভোট বাক্সে।” তৃণমূল নেতার স্পষ্ট দাবি, বিজেপির বিদায় হচ্ছেই, এটা কেউ আটকাতে পারবে না। অভিষেক বলছেন, ”আমি মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখেছি, আর তৃণমূলের পক্ষে তারা ভোট দেবেন। দায়িত্ব নিয়ে বলছি বিজেপির বিদায় আসন্ন।” 

বিজেপি ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই দাবি করেছে যে দেশজুড়ে ৪০০ আসনের বেশি পাবে। আর বাংলায় ৩০ থেকে ৩৫টি আসনের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা।

তবে শেষ দফায় ভোট দেওয়ার পর অভিষেক সাফ বলছেন, ২০১৯ সালের থেকে আরও ভাল ফল করবে তৃণমূল। যে ছটি দফায় ভোট হয়েছে তাতে ইতিমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছেন তারা, শনিবারের ভোটে বিজেপির বিদায় পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যাবে। 

উত্তর কলকাতায় এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। একদা সতীর্থ তাপস রায়ের মুখোমুখি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সকাল সকাল সস্ত্রীক ভোট দেন তৃণমূল প্রার্থী। ক্যালকাটা বয়েজ স্কুলে সকাল আটটা ২০ মিনিট নাগাদ স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন তিনি। ওই স্কুলে সাতটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘুরে দেখেন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর খোঁজ রাখেন না, এদিন দাবি করলেন সুদীপ।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাপস রায়ে দুই জনের রাজনৈতিক উত্থান কংগ্রেস থেকে। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করার পর তাঁরা ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করেন। তৃণমূলে থাকাকালীনও সুদীপ-তাপস ‘সম্পর্ক সমীকরণ’ কারও কাছে অজানা ছিল না।

লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন তাপস। তাঁকেই এবার উত্তর কলকাতায় সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্মুখ সমরে দাঁড় করানো হয়েছে। তাপস রায়কে প্রার্থী করার পর সুদীপ উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেছিলেন। এই বর্ষীয়ান নেতা বলেছিলেন, ‘আমি নয় বারের প্রতিনিধি। এবার জয়ী হয়ে মেসির মতো করে মাঠ ছাড়ব।’

যদিও সুদীপের রাজনৈতিক গ্রাফে ‘ফিনিশিং টাচ’-এর ক্ষেত্রে তাপসের প্রার্থী হওয়া বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এই নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে রাজি নন স্বয়ং সুদীপ। এদিন ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ বলেন, ‘যতবার জিতেছি তার পরবর্তী ভোটে জয়ে ভোট মার্জিন বেড়েছে। ২০১৯ সালে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা সবথেকে বেশি। সেই রেকর্ড ভাঙাই এবার আমার লক্ষ্য।’ নিরাপত্তা কোথাও বিঘ্নিত হয়েছে বলে তাঁর নজরে আসেনি, জানান সুদীপ। তাঁর কথায়, ‘এখনও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চলছে। এত বড় নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত গন্ডোগোল হলেও তা মিটে যাচ্ছে।’

এদিন মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে বড় মন্তব্য সুদীপের। তিনি বলেন, ‘মিঠুন চক্রবর্তী ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে গিয়ে তার পিছনের ভোটারদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন‌।’ মিঠুনের ‘খোঁজখবর’ রাখলেও তাপস প্রসঙ্গে একটি শব্দও ব্যায় করেননি তিনি। সুদীপ বলেন, ‘বিজেপি প্রার্থীর সম্বন্ধে প্রথম থেকেই খবর রাখিনি , আজও রাখছি না।’

সুদীপ জায়া নয়না এদিন বলেন, ‘সমস্ত ভোটারদের ভোটদানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। উত্তর কলকাতায় ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা দান হয় না।’ এখন দেখার, মেসির মতো দুর্দান্ত রেকর্ড পকেটে পুরে মাঠ ছাড়ার সৌভাগ্য কি সুদীপের হবে? নাকি জার্সি বদলে ‘গোল’ দেবেন তাপস? উত্তর মিলবে ৪ জুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here