দেশের সময়  চন্দ্রবাবু নাইডু এবং নীতীশ কুমার, এই দুজনের সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছিল। লোকসভা ভোটে ‘ইন্ডিয়া’ ভাল ফল করার পর অল্প আশা হয়তো দেখেছিল সরকার গড়ার। কিন্তু দুই ‘এন’ তা হতে দিলেন না। বুধবার নরেন্দ্র মোদীর সহ বাকিদের সঙ্গে বৈঠক করে চন্দ্রবাবু এবং নীতীশ স্পষ্ট করে দিলেন তাঁরা এনডিএ-কেই সমর্থন করছেন। তাই আবার ‘মোদী সরকার’ হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।

বুধবার নরেন্দ্র মোদীকে সর্বসম্মতিক্রমে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বুধবার রাতেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছে। সরকার গঠন নিয়ে মোদীকে একপ্রকার তাড়াই দিয়েছেন নীতীশ কুমার। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, তিনি মোদীকে অনুরোধ করেছেন দ্রুত সব সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার গঠন করতে। 

লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর উজ্জীবিত ইন্ডিয়া জোট শিবির। বুধবার দিল্লিতে তারা বৈঠক করেছে। চন্দ্রবাবু নাইডু এবং নীতীশ কুমার এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিরোধী জোটের সরকার গড়ার আশা আপাতত শেষ হলেও যে লড়াই তারা করেছে সেটাই আগামী দিনে বজায় রাখতে চায়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এমনই বার্তা দিয়েছেন। তবে এখনই যে তারা সরকার গঠনের কোনও দাবি করবেন না, তার ইঙ্গিত মিলেছে।

বুধবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জোটের সব সদস্যরা। মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ করা হবে। এখন যেমন বিজেপি সরকার গড়ছে তেমনই গড়ুক। তবে এই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে ইন্ডিয়া জোট। একই সঙ্গে তিনি এও আশ্বাস দেন, যে যে প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে সেগুলি পূরণ করার কাজ করা হবে। 

এখনই সরকার তৈরির চেষ্টা না করলে কবে করবে? খাড়্গে জানান, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তারা ম্যাজিক ফিগার থেকেও পিছিয়ে। এতএব, সরকার গড়তে গেলে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত ইন্ডিয়া জোট সেই অপেক্ষাই করবে। ততদিন ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আন্দোলন হবে। এমনটাই স্পষ্ট করে দেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। 

https://x.com/INCIndia/status/1798374845580738915?t=mqZctom9crPqebKLw3ueKw&s=19

বুধবারের যে ছবি ধরা পড়েছে তাতে এই বৈঠকের মধ্যমণি ছিলেন রাহুল গান্ধীই। আর কেনই বা হবেন না। দুটি আসনে দাঁড়িয়ে দুটিতেই বিপুল পরিমাণ ভোটে জিতেছেন তিনি। তাঁর পাশে দেখা যায় অখিলেশ যাদবকে, যার নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশে কার্যত ধরাশায়ী হয়েছে বিজেপি। একই লাইনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা দূরেই বসেছিলেন। তাঁর পাশে অবশ্য ছিলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী।

বিরোধী শিবির স্পষ্ট বলেছে, দেশ যা রায় দিয়েছে তা একদম নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে। তাঁর নেতৃত্বে যে সরকার চলছে তা আর সহ্য করতে পারছেন না দেশের মানুষ। তাঁরা চান এই সরকারকে সরাতে। সেই চেষ্টার শুরু হয়ে গেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই মল্লিকার্জুন খাড়্গের বার্তা, ইন্ডিয়া জোট সেই সব দলকে স্বাগত জানাচ্ছে যারা এই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করতে চায়। 

এদিকে এদিন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এনডিএ-র  বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা, রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, টিডিপির চন্দ্রবাবু নাইডু, জেডিইউয়ের নীতীশ কুমার, জেডিএসের এইচডি কুমারস্বামী, এলজেপির চিরাগ পাসওয়ান, একনাথ শিন্ডে সহ আরও অনেকে।

মঙ্গলবার লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছে নিজের ইস্তফা দেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়ার অর্থ গোটা মন্ত্রিসভা ভেঙে যাওয়া। এদিন মোদী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাষ্ট্রপতি টুইট করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে নরেন্দ্র মোদী ও গোটা মন্ত্রিসভার ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছি এবং তাঁকে আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে বলেছি।

বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী ৮ জুন শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। সেদিন প্রধানমন্ত্রী পদে ফের শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here