I PAC কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল ED মামলার শুনানি ,পরবর্তী শুনানি কবে?

0
19

সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি। ইডির দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এদিন রাজ্যের হলফনামার জবাব দিতে সময় চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেইমতোই তাদের এক সপ্তাহ সময় দিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় আগামী মঙ্গলবার।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য। মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই ইডির তরফে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আবেদন করেন, রাজ্যের দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখার সময় দেওয়া হোক। ইডি-ও পাল্টা হলফনামা দিতে চায় বলে আদালতে জানান তুষার। শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয় ইডির তরফে। ইডির আবেদন নিয়ে রাজ্য মত জানতে চায় বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চ। রাজ্য সম্মতি দেওয়ার পরই মামলা পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানায় তারা। আগামী মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে রাজ্যের তরফে ইডির মামলা খারিজের আবেদন করা হয়। রাজ্যের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার কোনও মৌলিক অধিকার নেই ইডির। যে ভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে, সে ভাবে তল্লাশি চালানো যেতে পারে না। কেন আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে রাজ্যের তরফে।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় (সাংবিধানিক প্রতিবিধান সংক্রান্ত মৌলিক অধিকার) অভিযোগ এনেছিল ইডি। রাজ্যের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা।

আইপ্যাক তল্লাশিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে ইডি। তাদের অভিযোগ ছিল, ‘তল্লাশি চলাকালীন জোর করে ঢুকে বাধা দেওয়া হয়, অনুমতি ছাড়াই নথি তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যা সরাসরি চুরির অপরাধ।’ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর হলফনামায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইডি তল্লাশিতে বাধা দেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাদের অনুমতি নিয়েই শুধুমাত্র পার্টি সংক্রান্ত নথি নিয়ে এসেছিলেন।’ যদিও এই দাবি মানতে নারাজ ইডির আইনজীবী। তাই এর জবাব দেওয়ার সময় চেয়েই আবেদন করা হয় সুপ্রিম কোর্টে।  

গত ৮ জানুয়ারি সকালে বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রে কলকাতায় জোড়া অভিযান চালিয়েছিল ইডি। একটি দল গিয়েছিল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে। অন্য দলটি গিয়েছিল লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে। আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। তাদের দফতরে ইডির হানার কথা শুনে মমতা নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র, ফাইল এবং ল্যাপটপ বার করে আনেন তিনি। পরে সল্টলেকে সংস্থার দফতরে গিয়েও একই কাজ করেন। তার পরেই তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে সে দিনই ইডি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু ৯ জানুয়ারি ওই আবেদনের শুনানি আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি করে দিয়েছিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।
 

Previous articleআসন্ন বিধানসভা ভোটে হাবরায় কি ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বালু?জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজেই উস্কে দিলেন জল্পনা
Next articleভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হতেই কী বার্তা দিলেন মোদী ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here