
দেশের সময় :শনিবার কলকাতার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে মঞ্চস্থ হল রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী। বাংলা নাটকের প্রথম নির্দেশনায় রক্তকরবীকেই ফিরিয়ে আনলেন চৈতি ঘোষাল। দেখুন ভিডিও

অভিনয়ের পাশাপাশি ফিরলেন নির্দেশনায়। তৃপ্তি মিত্রের তত্বাবধানে তৈরি রক্তকরবীর সেই নন্দিনী আজ প্রথম বাংলা নাটকে নিজের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ করলেন রক্তকরবীর সেই নন্দিনী চরিত্রটিকেই। নাটকের সম্পাদনা থেকে শুরু করে প্রথম দৃশ্য, পোশাক পরিকল্পনা, গান, মঞ্চসজ্জা, আলো, অভিনেতা সবক্ষেত্রেই নতুনত্ব এনেছেন চৈতি। নাটকটির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দেবজ্যোতি মিশ্র, নৃত্য পরিকল্পনায় সুকল্যাণ ভট্টাচার্য, মঞ্চসজ্জা ও পোশাক পরিকল্পনায় দেবব্রত মাইতি, রাজার চরিত্রে অভিনয় করেন দেবেশ রায়চৌধুরি, অধ্যাপকের ভূমিকায় অশোক মজুমদার এবং অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন জীবন সাহা, পার্থ মুখোপাধ্যায়, পবিত্র কুমার প্রমুখ।

রক্তকরবীর মূল প্রটাগনিস্ট নন্দিনী চির শাস্বত যৌবনের প্রতীক, তার পরণের ধানী রঙের শাড়ি, কানে রক্তকরবীর কুন্ডল যা তার স্বাধীন সত্তা, সৌন্দর্য ও ক্ষমতাকেই প্রদর্শন করে। রঞ্জনের প্রেমে পাগল সেই দুখ জাগানিয়া আজও চিৎকার করে সমাজকে জানান দেয় বিপ্লবের। বিগত তিন দশক ধরে তিনি এই চরিত্রে অভিনয় করে আসছেন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি পরিণত হয়েছে সে। তাই বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা যেন অনেক বেশী করে ফুটে উঠেছে তার অভিনয়ে। দেশের তথা সারা পৃথিবীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেই যেন তুলে ধরে যক্ষপুরী আর তার লোভী রাজা।

বিশ্বকবি রচিত রক্তকরবী আজ একশো বছর পরেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই সেই প্রসঙ্গে রক্তকরবীর বর্তমান নির্দেশক এবং অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল জানালেন, ‘এই যুদ্ধ বিধ্বস্ত পৃথিবীতে রক্তকরবী এক অনুপ্রেরণা। সেইসঙ্গে তিনি মনে করেন আগামী একশো বছর ধরেও এই নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা বজায় থাকবে। আজকের নতুন প্রজন্মের কাছেও রক্তকরবী সম্পূর্ণভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক।

চৈতি ঘোষালের সামগ্রিক নির্দেশনা এবং তার অভিনয় যে কতটা ছাপ ফেলেছে উৎসাহী দর্শক মনেও তা নাটকের শেষে করতালিতেই জানান দেয়।