
দেশেরসময় ওয়েবডেস্কঃ গরু পাচার কাণ্ড নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই জলঘোলা চলছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছিল। গরু পাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত এনামুল হককে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। শনিবারই তাঁকে আদালতে তোলা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, গরু পাচার কাণ্ডে তদন্তের স্বার্থে এনামুলকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চাইবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

প্রসঙ্গত, সীমান্ত পেরিয়ে প্রায়ই গরু পাচারের অভিযোগ আসে। বাংলায় গরু পাচার নিয়ে বিগত দু’তিন বছর চাঞ্চল্যকর নানান তথ্য উঠে এসেছে। জড়িয়েছে একাধিক রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর নাম। এই কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল এনামুল হকের। ২০২০ সালে এই কাণ্ডে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিবিআই। এবার গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

কিন্তু তদন্ত বন্ধ হয়নি সিবিআই ও ইডি এই ঘটনার তদন্ত চালাতে থাকে। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনামুলকে দিল্লিতে তলব করে ইডি। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে প্ৰশ্ন করা হলে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তারপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জানা যাচ্ছে, আজই তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

ইডি সূত্রে খবর, গরু পাচার কাণ্ডে একাধিক প্রভাবশালী নেতার যোগ আছে। পাশাপাশি প্রচুর টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে এনামুলকে।

সম্প্রতি, এই গরু পাচার কাণ্ডে নিজাম প্যালেসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় অভিনেতা-সাংসদ দেবকে। টানা পাঁচ ঘন্টা তাঁকে জেরা করে সিবিআই। এনামুল হকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খতিয়ে দেখার জন্যই এই জেরা বলে খবর ছিল। যদিও অভিনেতা দাবি করেন, তিনি এনামুলকে চেনেন না।
একুশের বিধানসভা ভোটের আগে কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ডে অত্যন্ত সক্রিয় হতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। চলে একাধিক ধরপাকড়। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বেশ কিছু বিশিষ্টকে। এ দিকে এর আগেও এনামুলকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সীমান্ত বাহিনীর কমান্ডারকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, গরু পাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে বিএসএফ জওয়ান সতীশ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই উঠে আসে এই এনামুলের নাম।
