Budget 2026নতুন আয়কর আইন চালু ১ এপ্রিল থেকে ,বাজেটে বাংলার ভাগ্যে কী কী?

0
13

টানা নবমবারের মতো বাজেট (Budget 2026) পেশের আগে লাল রঙের কভারে মোড়া ট্যাবলেট হাতে ছবি তুললেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন । পরনে কাঞ্জিভরম শাড়ি। কর্তব্য ভবনের সামনে তোলা সেই ছবি মুহূর্তেই নজর কেড়েছে। বাজেট নথির প্রতীকী রঙ, প্রযুক্তির ব্যবহার আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া—সব একসঙ্গে।

লোকসভায় উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
মাঘ পূর্ণিমার পুণ্যতিথি ও গুরু রামদাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাজেট পেশ শুরু করলেন নির্মলা। লোকসভায় উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সংসদে বাজেট পেশ করছেন নির্মলা, মধ্যবিত্তের জন্য কী কী ঘোষণা?
২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট অনুমোদিত হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। এর পরেই ১১টায় সংসদে বাজেট পেশ করতে শুরু করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। মধ্যবিত্তের জন্য তিনি কী কী ঘোষণা করছেন? দেখে নিন সমস্ত আপডেট

ভোটমুখী বাংলা কী কী পাবে এই বাজেটে, জল্পনা ছিলই তা নিয়ে। রবিবার বাজেট পেশে লক্ষণীয়, একাধিক বিষয়ে জোর দিয়েছে কেন্দ্র। অন্যদিকে বাংলা বরাবর বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছে। তার মাঝেই এই বাজেটে ভোটমুখী বাংলা কী পাচ্ছে?

ভোটের আগে নজর বাংলার পরিবহনে! ডানকুনি-সুরাট ফ্রেট করিডোর, বারাণসী-শিলিগুড়ি রেল করিডোর বাজেটে

১ এপ্রিল থেকে চালু হতে চলেছে নতুন আয়কর আইন। বাজেট পেশের সময় জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নির্মলা জানালেন, নতুন আয়কর আইনে ৩১ জুলাই পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে। অডিট হয়নি এমন ব্যবসায়িক মামলা বা ট্রাস্টের ক্ষেত্রে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করার সুযোগ। আরও সরলীকরণ করা হবে কর কাঠামো। ছোটমাপের আয়কর ফাঁকিতে শুধুই জরিমানা করা হবে।

বাংলার জন্য বাজেটে বড় ঘোষণা নির্মলার, ডানকুনিতে তৈরি হবে পণ্য পরিবহণ করিডর ।

বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছে বাংলার পরিবহনে। ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত তৈরি হবে ফ্রেট করিডর। সবুজ পণ্য পরিবহনের প্রচারের জন্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতায়।

অর্থমন্ত্রী সীতারমন তাঁর বাজেট পেশ বক্তৃতায় পূর্বের ডানকুনি থেকে পশ্চিমের সুরাট পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের কথা ঘোষণা করেছেন।
এদিন বাজেট পেশ করার সময়, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বক্তৃতায় ভারতজুড়ে ৭টি হাই-স্পিড রেল করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ভারতে যোগাযোগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডোরের উন্নয়নের প্রস্তাব করেছেন। মূল রুটগুলির মধ্যে রয়েছে: মুম্বই থেকে পুনে; পুনে থেকে হায়দরাবাদ; হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু; বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই, বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি।

২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের আওতায় আঞ্চলিক সংযোগ এবং দেশজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত করিডোরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাজেটের তিন কর্তব্য
নির্মলা জানালেন, “এই বাজেট তৈরির সময় তিনটে কর্তব্যকে মাথায় রাখা হয়েছে-
১) অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত ও দীর্ঘস্থায়ী করা
২) জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা
৩) সবকা সাথ, সবকা বিকাশ”
সবকা সাথ সবকা বিকাশ
নির্মলা বলেন, “এই বাজেট সবকা সাথ সবকা বিকাশের পথে কাজ করে যাবে। সংস্কার এক্সপ্রেস আর্থিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
বাজেটের লক্ষ্য হল, দেশের গরিব, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের জন্য
নির্মলা বলেন, এই বাজেটের লক্ষ্য হল, দেশের গরিব, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের জন্য। আমাদের প্রথম কর্তব্য হল- বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশকে বিকশিত ভারত গড়ে তোলা।

সরকার সর্বাত্মক সংস্কারের পথে
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭ পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভারতকে বিশ্বমানের বায়ো-ফার্মা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বায়ো ফার্মা শক্তি’ কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে বায়োলজিকস ও বায়োসিমিলার ওষুধের ঘরোয়া উৎপাদনের জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর ইকোসিস্টেম তৈরি করা হবে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কাজ করবে সরকার
নির্মলা রামন ডেডিকেটেড রিয়্যাল আর্থ খনিতে তামিলনাড়ু, কেরল ও ওড়িশা-সহ দক্ষিণের বেশ কয়েকটি রাজ্যকে নিয়ে করিডর গঠনের কথা ঘোষণা করেন। সেমি কন্ডাক্টর মিশন দ্বিতীয় পর্যায়ের উপর জোর দিয়ে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কাজ করবে সরকার।

মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ প্রকল্প
মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ প্রকল্প গ্রামাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বিরাট প্রকল্পের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। এতে গ্রামের মানুষ উৎপাদন, মজুত ও বিক্রির সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন।

উদ্যোগপতিদের উৎসাহ
ভবিষ্যতের উদ্যোগপতিদের উৎসাহ দিতে এসএমই গ্রোথ ফান্ডে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব নির্মলা সীতারামনের।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি
কেন্দ্রীয় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংসদে বাজেট ভাষণে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করতে সামগ্রিক সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”

৩৫০টিরও বেশি সংস্কার কার্যকর
নির্মলা বলেন, “আমাদের সরকার কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করতে সামগ্রিক সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসের ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত “৩৫০টিরও বেশি সংস্কার কার্যকর করা হয়েছে।”
 

ছ’টি মূল ক্ষেত্রে জোর সরকারের
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী দিনে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ধরে রাখা ও আরও গতিশীল করতে সরকার ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিচ্ছে—
সাতটি কৌশলগত খাতে উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) সম্প্রসারণ।
পুরনো শিল্পখাতগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো।
অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে এমএসএমই (ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প) খাতকে শক্তিশালী করতে ‘চ্যাম্পিয়ন এমএসএমই’ তৈরি।
দেশজুড়ে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোরদার উদ্যোগ।
অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
আঞ্চলিক উন্নয়ন ও নগরায়ণের জন্য ‘সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন’ গড়ে তোলা।

কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে আগামী দিনে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে।

তিনটি আয়ুর্বেদ কেন্দ্রের প্রস্তাব
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ঘোষণার মধ্যে চিকিৎসা পদ্ধতিতে অনেকগুলি সুবিধা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে চিকিৎসা হাবের কথাও বলেন নির্মলা। একইসঙ্গে আয়ুর্বেদ ও যোগ-এর জন্য তিনটি আয়ুর্বেদ কেন্দ্রের কথাও প্রস্তাব করেন তিনি।

প্রতিটি জেলায় একটি করে মেয়েদের হস্টেল
প্রতিটি জেলায় একটি করে মেয়েদের হস্টেল গড়ে তোলা হবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হসপিটালিটি
বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পকে শক্তিশালী করতে একটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জানান, এই ইনস্টিউট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প মহল এবং সরকারের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় নতুন দিশা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

নারকেলের জন্য বিশেষ প্রকল্প
নারকেলের জন্য বিশেষ প্রকল্প নেবে কেন্দ্র। তামিলনাড়ু, কেরল ও পশ্চিমবঙ্গের মুখে নারকেল উৎপাদনে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে চলেছে এই সরকার। পুরনো অনুৎপাদক গাছের জায়গায় নতুন চারা দেওয়া হবে চাষিদের। নির্মলা বলেন, বিশ্বে সর্ববৃহৎ নারকেল উৎপাদক দেশ হল ভারত।

‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আগামী এক দশকে দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রকে আমূল বদলে দিতে ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’ চালুর ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এই মিশনের মূল লক্ষ্য হবে দেশের ক্রীড়াব্যবস্থাকে কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার উপযোগী খেলোয়াড় তৈরি করা।

প্রাথমিক, মধ্যবর্তী ও অভিজাত স্তরে প্রশিক্ষণ
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই মিশনের অধীনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে—
প্রাথমিক, মধ্যবর্তী ও অভিজাত স্তরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলে প্রতিভা বিকাশের সমন্বিত পথ তৈরি।
খেলোয়াড় ও সহায়ক কর্মীদের পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত উন্নয়ন।
প্রশিক্ষণ ও পারফরম্যান্সে ক্রীড়া বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সংযুক্তি।
প্রতিযোগিতা ও লিগ আয়োজনের মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্কৃতিকে উৎসাহ দেওয়া এবং খেলোয়াড়দের উপযুক্ত মঞ্চ তৈরি।
প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
অর্থমন্ত্রীর মতে, ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’ ভবিষ্যতে ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের উপস্থিতি আরও জোরদার করবে।

বৌদ্ধ সার্কিট ও গুম্ফাগুলির সংস্কার
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য বৌদ্ধ সার্কিট ও গুম্ফাগুলির সংস্কার করবে সরকার। এবং পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে।

করদাতাদের সুবিধার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে করদাতাদের সুবিধার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, কর পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া যাতে আরও স্বচ্ছ ও সহজ হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • নামমাত্র ফি দিয়ে আয়কর রিটার্ন সংশোধনের সময়সীমা বাড়ানো হবে।
  • ITR-1 ও ITR-2 ফর্মে রিটার্ন দাখিলকারীরা আগের মতোই ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
  • যেসব ব্যবসা বা ট্রাস্টের অডিট প্রয়োজন নেই, তারা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
  • প্রবাসী ভারতীয়দের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির সময় টিডিএস (TDS) কাটার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
  • এবার থেকে টিডিএস কাটার দায়িত্ব থাকবে ভারতে থাকা ক্রেতার উপর, আলাদা করে TAN নম্বর উদ্ধৃত করার আর প্রয়োজন হবে না।

অর্থমন্ত্রীর মতে, এই পদক্ষেপগুলির ফলে প্রবাসী ভারতীয়সহ সব করদাতার জন্য কর সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমবে এবং স্বেচ্ছায় কর মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে করদাতাদের সুবিধার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, কর পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া যাতে আরও স্বচ্ছ ও সহজ হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • নামমাত্র ফি দিয়ে আয়কর রিটার্ন সংশোধনের সময়সীমা বাড়ানো হবে।
  • ITR-1 ও ITR-2 ফর্মে রিটার্ন দাখিলকারীরা আগের মতোই ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
  • যেসব ব্যবসা বা ট্রাস্টের অডিট প্রয়োজন নেই, তারা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
  • প্রবাসী ভারতীয়দের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির সময় টিডিএস (TDS) কাটার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
  • এবার থেকে টিডিএস কাটার দায়িত্ব থাকবে ভারতে থাকা ক্রেতার উপর, আলাদা করে TAN নম্বর উদ্ধৃত করার আর প্রয়োজন হবে না।

অর্থমন্ত্রীর মতে, এই পদক্ষেপগুলির ফলে প্রবাসী ভারতীয়সহ সব করদাতার জন্য কর সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমবে এবং স্বেচ্ছায় কর মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলির জন্য ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ

নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলির জন্য ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সংসদে তিনি বলেন, সরকার ১৬তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করেছে এবং কেন্দ্র থেকে রাজ্যগুলির প্রাপ্য অর্থের ভাগ ৪১ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলির জন্য আমি ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করছি। 

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বরাদ্দের মাধ্যমে রাজ্যগুলির আর্থিক ক্ষমতা আরও মজবুত হবে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে। কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ করার দিকেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রক।

নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলির জন্য ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সংসদে তিনি বলেন, সরকার ১৬তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করেছে এবং কেন্দ্র থেকে রাজ্যগুলির প্রাপ্য অর্থের ভাগ ৪১ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলির জন্য আমি ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করছি। 

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বরাদ্দের মাধ্যমে রাজ্যগুলির আর্থিক ক্ষমতা আরও মজবুত হবে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে। কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ করার দিকেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রক।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির জবাব

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির জবাবে নির্মলা সি ফুড, চর্ম, সিনথেটিক জুতো, বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, লিথেনিয়াম ব্যাটারি, সোডিয়াম অ্যানটিমোনেট, দুষ্প্রাপ্য খনিজ, বায়ো গ্যাস ব্লেন্ডেড সিএনজি, বিমান যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স পণ্যে বিশেষত মাইক্রোওয়েভ প্রভৃতিতে আমদানি-রফতানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেন নির্মলা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির জবাবে নির্মলা সি ফুড, চর্ম, সিনথেটিক জুতো, বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, লিথেনিয়াম ব্যাটারি, সোডিয়াম অ্যানটিমোনেট, দুষ্প্রাপ্য খনিজ, বায়ো গ্যাস ব্লেন্ডেড সিএনজি, বিমান যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স পণ্যে বিশেষত মাইক্রোওয়েভ প্রভৃতিতে আমদানি-রফতানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেন নির্মলা।

ক্যানসারের ওষুধ এখন থেকে আরও সস্তা

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পণ্যে আমদানি শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং ক্যানসার চিকিৎসা সহ ১৭টি ওষুধে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এনেছেন অর্থমন্ত্রী। ক্যানসারের ওষুধ এখন থেকে আরও সস্তায় মিলবে।

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পণ্যে আমদানি শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং ক্যানসার চিকিৎসা সহ ১৭টি ওষুধে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এনেছেন অর্থমন্ত্রী। ক্যানসারের ওষুধ এখন থেকে আরও সস্তায় মিলবে।

সবথেকে কম সময়ের বাজেট ভাষণ
প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাজেট প্রস্তাব পেশ করলেন নির্মলা সীতারামন। বাজেট প্রস্তাব পেশের পরেই স্পিকার ওম বিড়লা এদিনের মতো লোকসভা মুলতুবি করে দেন। পরবর্তী সভা বসবে সোমবার। এটাই তাঁর এ পর্যন্ত পেশ করা সবথেকে কম সময়ের বাজেট ভাষণ।
প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাজেট প্রস্তাব পেশ করলেন নির্মলা সীতারামন। বাজেট প্রস্তাব পেশের পরেই স্পিকার ওম বিড়লা এদিনের মতো লোকসভা মুলতুবি করে দেন। পরবর্তী সভা বসবে সোমবার। এটাই তাঁর এ পর্যন্ত পেশ করা সবথেকে কম সময়ের বাজেট ভাষণ।

Previous article‘নায়ক’ সিনেমার পোশাক , মহানায়কের কাটআউট-এর সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ বইমেলায়
Next articleএসআইআর-মৃতদের পরিবারের সদস্যদের আটকানোর খবর পেয়ে বঙ্গভবনে মমতা , শাহের পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here