প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

ঘুমের মধ্যেই অগ্নিদগ্ধ! সোমবার ভোরে কী ঘটেছিল তারাপীঠের হোটেলে?

deshersamay

Share article:

ভোররাত। তখন সকলে ঘুমে আচ্ছন্ন। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার কেউ হয়তো মা তারাকে পুজো দিতে এসেছিলেন, কেউ আবার ঘুরতে গিয়েছিলেন, আবার কেউ ছিলেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন। কিন্তু, সোমবারের সকালটা যে আর দেখা হবে না, তা কেই বা জানত।

বীরভূমের তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন হোটেলে ভোররাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৬ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শ্রাবণের শেষ সোমবারে পুজো দিতে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে আলিপুরদুয়ার- রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের ভিড়ে ঠাসা ছিল হোটেলটি।

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ হঠাৎই বিস্ফোরণের শব্দ ও চিৎকার-চেঁচামেচিতে আবাসিকদের ঘুম ভেঙে যায়। হোটেলের মালিকের অনুমান, বিদ্যুৎ সরবরাহের এমসিবি ফেটে গিয়েই আগুনের সূত্রপাত। ফাইবারের অন্দরসজ্জা থাকায় সেই আগুন অতি দ্রুত রিসেপশন থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরগুলোতে জানলা না থাকায় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চারদিক ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, যার ফলে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হোটেলের পিছনে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা ছিল। কিন্তু বাইরে থেকে আসা পুণ্যার্থীদের অনেকেই সেই পথ সম্পর্কে জানতেন না। ফলে আতঙ্কের মধ্যে অনেকে সামনের রিসেপশন দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন । সেখানেই আগুনের কবলে পড়ে কয়েকজন ঝলসে যান।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, হোটেলের বেশ কয়েকজন আবাসিক বারান্দার পাইপ বেয়ে নীচে নামার চেষ্টা করেন। এভাবেই কোনওরকমে প্রাণ বাঁচান অনেকে। হোটেলের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনী। বৃষ্টির মধ্যেই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি হোটেলের ভিতর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করেন।

বীরভূমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নীলেশ শ্রীকান্ত গায়কোয়াড় জানিয়েছেন, আহতদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে বর্তমানে ১২ থেকে ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দমকলের ওসি নীলাদ্রি মজুমদার জানিয়েছেন, আগুন মূলত হোটেলের দোতলা পর্যন্ত ছড়ালেও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল প্রায় সমস্ত তলায়। ঘরের জানলা বন্ধ থাকায় ধোঁয়া বেরোতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট এবং ফাইবারের অন্দরসজ্জাকেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ঠিক কীভাবে আগুন লাগল, হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা ছিল এবং এই ঘটনায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় তারাপীঠে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tags: জেলা

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন