তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়:এ পর্যন্ত উদ্ধার ১৩, নামল সেনা, ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কন্ট্রোল রুম খুলে হেল্পলাইন চালু নবান্নর
deshersamay

বুধবার কলকাতার তারাতলা এলাকার ব্রেসব্রিজের কাছে ঘটে গেছে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সেখানে একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন লোহার বিশাল ছাদ ও ভারী বিম হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে এক চরম বিপত্তি তৈরি হয়েছে। ছাদ ভাঙার জেরে লোহার বিম ও ধ্বংসস্তূপের তলায় একাধিক শ্রমিকের আটকে থাকার তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাতে দুর্ঘটনাস্থলে নামানো হয়েছেভারতীয় সেনাবাহিনী ।

তার আগেই অবশ্য কলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMG) এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক কাজ শুরু করে দেয়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার ১৩, কত জন এখনও আটকে স্পষ্ট নয় ।

আহতদেরকে গুরুতর জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। তারাতলার ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করে দিয়েছেন। ক্রেন দিয়ে ভেঙে পড়া লোহার বিম তোলার চেষ্টা চলছে। তার নীচেই আটকে আছেন শ্রমিকেরা। ঠিক কত জন আটকে আছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লোহার বিমে লেগে আছে রক্তমাংস।

কলকাতা পুরসভার পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘটনাস্থলে রয়েছেন। রয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই যাতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়, সময় যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। গুদামের কয়েক তলা উঁচু ছাদ বুধবার বেলার দিকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। অনেক শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন। সূত্রের দাবি, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। গুদামের ঠিকাদারও ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে খবর।
দমকল কর্তৃপক্ষের কাছে তারাতলার বিপর্যয়ের খবর যায় বেলা ১২টার পর। একাধিক গাড়ি সেখানে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, ভারতীয় সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে।
একাধিক ক্রেন ঘটনাস্থলে রয়েছে। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে পারে, এমন হাইড্রোলিক ক্রেনও ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভেঙে পড়া কাঠামোর পিছন দিকে একটি জায়গা দিয়ে প্রথমে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।
পরে উপরের দিকে মাঝ বরাবর লোহার বিম কেটে ফাঁকা স্থান তৈরি করা হয়। সেখান দিয়ে ভিতরে যাতে হাওয়া ঢুকতে পারে, জল পৌঁছে দেওয়া যায়, তার বন্দোবস্ত করেন উদ্ধারকারীরা। ওই ফাঁকা অংশ দিয়ে ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের দেখা গিয়েছে। রয়েছেন মহিলারাও।

এক মহিলাকে সেখান থেকে কোনও রকমে টেনে বার করেছেন উদ্ধারকারীরা। তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একাধিক দিক থেকে চলছে উদ্ধারকাজ।
কয়েক হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই গুদামের ভিতরে একটি জায়গায় ছিল শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা। কে কোথায় থাকতে পারেন, ছাদ ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তে কোন দিকে শ্রমিকেরা ছিলেন, তা বোঝার জন্য স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। লোহার বিম সরানোর জন্য ক্রেনের সঙ্গে তা বাঁধা হয়েছে।
ভিতরে কোথায় কে আটকে আছেন, কী অবস্থায় আছেন, জানার জন্য উদ্ধারকারীরা টর্চ হাতে ঘুরছেন। হ্যান্ড মাইকের সাহায্যে তাঁরা চিৎকার করছেন। ভিতরে কেউ আটকে আছেন কি না, জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। ৩০ থেকে ৫০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অনেকেই প্রিয়জনকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে এসেছেন। গুদাম চত্বর জুড়ে হাহাকার পড়ে গিয়েছে।

