

আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে শোকপ্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করল কেন্দ্র ।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে টুইট করে জানানো হয়েছে, “এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক”। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দফতরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে হইচই শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে উদ্ধার ও চিকিৎসার কাজও পুরো দমে চলছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকারও।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ইতিমধ্যেই চার দিন কেটে গিয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের খোঁজ মেলেনি। আজ, অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ২১টি দেহাংশ। তবে এগুলি কত জনের দেহাবশেষ, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপও জোরদার হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াও মোমোর গুদামের ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এর আগে গ্রেফতার হয়েছেন দ্বিতীয় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক শুক্রবার জানান, আনন্দপুর থানায় মোট ২৭ জনের নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি নথিভুক্ত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি কার, তা শনাক্ত করার জন্য সেগুলি কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি-এ পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে তবেই নিহতদের পরিচয় এবং প্রকৃত মৃতের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। দ্রুত তদন্তের স্বার্থে বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার নিজে সিএফএসএল-এ গিয়ে পরীক্ষার অগ্রগতি তদারক করেন।
এ দিকে, শুক্রবারও থামেনি উদ্ধারকাজ। ডেকরেটার্সের গুদামের ভেঙে পড়া টিনের শেড সরিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে আরও কোনও দেহাংশ পাওয়া যায় কি না, তা নিশ্চিত করা যায়। ঘটনাস্থলে এখনও চলছে তল্লাশি।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পুড়ে যাওয়া আনন্দপুরের দুটি গুদাম ঘুরে বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি। পরিদর্শন শেষে রাজ্যপাল বলেন, “দোষারোপের জন্য নয়, তথ্য জানতেই এসেছি। তবে প্রশাসনের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। ঘটনার পর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।” একই দিনে সকালে ফের ঘটনাস্থলে যান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করে তদন্তে সহায়তা করছেন।




