২৪ ঘণ্টা পরেও পকেট ফায়ার , অগ্নিগ্রাসে আনন্দপুরের গুদাম , ধৈর্য ধরে রাখতে পারছেন না নিখোঁজদের পরিজনরা

0
21

রবিবার মাঝরাতে আনন্দপুরে একটি ব্র্যান্ডেড মোমো তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। আর পাঁচটা সাধারণ আগুন লাগার ঘটনার মতোই মনে হয়েছিল এটিও। কিন্তু বেলা গড়াতেই একে একে নিখোঁজ লোকজনের কথা সামনে আসতে থাকে। তাঁদের কেউ ছিলেন রাতের পাহারায়, কেউ আবার কারখানাতেই থাকতেন।

প্রথমে এনিয়ে মুখ না খুললেও পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের কাছ থেকেই নানা অভিযোগ শোনা যায়। একদিকে যখন বাবা-দাদাদের খুঁজতে অস্থির অনেকে, অন্যদিকে তখন আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দলকলকর্মীরা।

৬ ঘণ্টা, ৭, ১০, ১৫! না আগুন এতেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে মঙ্গলবার সকালেও জ্বলছে ওই কারখানা। স্থানীয়দের একাংশ জানাচ্ছে, প্রচুর পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডাল ও পাম অয়েল মুজত থাকায় আগুনের তীব্রতা এত। কিন্তু তা বলে ২৪ ঘণ্টা?

প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরাও জানতে চাইছেন, ঠিক কী মজুত ছিল ওখানে, কীভাবে জতুগৃহে পরিণত হল ওই কারখানা, যাতে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণেই আনা গেল না! উত্তর এখনও মেলেনি।

এদিকে, শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসমর্থিত সূত্রে খবর, ৩০ জন নিখোঁজ। তাদের কাউকেও পাওয়া যায়নি এপর্যন্ত। তাই মৃতের সংখ্যা নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে ক্রমশ, উদ্বেগ বাড়ছে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও।

মঙ্গলবার সকালে নিখোঁজ এক কর্মীর আত্মীয় ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ করেন, “জল দেওয়া ছাড়া দমকল কিছুই করতে পারছে না। আমাদের পরিচিতদের দেহ হয়তো আমাদেরই খুঁজে নিতে হবে!”

এদিন সকাল ৬টা নাগাদ দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের জায়গায় কাজ করছিল মাত্র পাঁচটি। তবে, বিভিন্ন দিক থেকে বারবার জল ছিটিয়েও ফল মেলেনি। ধিকিধিকি আগুন জ্বলতেই থাকে নাজিরাবাদের ওই বিশাল গুদাম চত্বরে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ভিতরে আটকে থাকা কর্মীদের বাঁচার সম্ভাবনা নিয়ে কার্যত আশা ছেড়ে দিচ্ছেন প্রায় সকলেই।

সোমবার সন্ধ্যা গড়াতে গুদামের বাইরে আনা হয়েছিল আর্থ মুভার মেশিন । বাইরে জমায়েত হওয়া স্থানীয় মানুষজন ও পরিবারগুলি দাবি করতে থাকে, অগ্নিকাণ্ডের রাতে ওই কারখানায় ৩০ জনেরও বেশি কর্মী ছিলেন। প্রাথমিক হিসাবও সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। প্রথমে তিন জন কর্মীর মৃত্যুর খবর মিললেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় আট জনে। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ কমপক্ষে ৩০ জন। আগুন না নেভায় আশঙ্কা, কারখানার ভিতরেই তাঁরা জতুগৃহের মতো পরিবেশে আটকে পড়েছেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ঝলসে যাওয়া দেহ ও কঙ্কালগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার পথে হাঁটছে প্রশাসন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পরীক্ষার ফল মিলিয়ে দেহ শনাক্ত করার পর জানানো হবে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে।

এদিকে ঘটনাস্থলে এত লোকের ভিড় হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। তবে আগুন সম্পূর্ণ নেভানো না গেলে উদ্ধারকাজে গতি আসবে না বলেই মনে করছেন দমকলকর্মীরা।

Previous articleজাতীয় স্কুল গেমসে ফুটবলে দাপট বাংলার মেয়েদের
Next articleবারামতীতে অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য,’দাদা’কে শেষবার দেখতে ভিড় জমছে বারামতীতে ,উপস্থিত থাকতে পারেন মোদী-শাহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here