

বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচাগ্র মেদিনী– এসআইআর আবহে তৃণমূল যেন এটাই পণ করেছে। দলের রণসজ্জা দেখে তেমনটাই যেন মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। কোর্ট হোক রাস্তায় সর্বত্রই সরব ঘাসফুল শিবির। ভোটার দিবসে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে পথে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের ব্লকে ব্লকে হবে তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল। প্রতি ব্লকে দু’টি করে মিছিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুথে বুথে ভোটরক্ষা কমিটি গড়তে হবে। আত্মতুষ্টি নয়, যুদ্ধের সময়, সাফ কথা অভিষেকের। আগামী ২২ দিন কর্মীদের মাটি আকড়ে থাকার নির্দেশ তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের। কাজ সিরিয়াস না হলে দল রাখবে না, সাফ বার্তা অভিষেকের।

সূত্রের খবর, শনিবাসরীয় দলের মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকে বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ–২) উদ্দেশে কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ।
সূত্রের খবর, এদিন সংগঠনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়ার পরামর্শ দিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “নভেম্বরে আপনাদের বলেছিলাম, এই লড়াই ছ’মাসের। তিন মাস কেটে গিয়েছে। সামনে এখনও তিন মাস, হাতে আছে প্রায় ১০০ দিন।”

অভিষেক জানান, এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় হাতে রয়েছে মাত্র ২২ দিনের মতো। এই অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনের ‘পূর্ণ শক্তি’ কাজে লাগাতে হবে। তাঁর নির্দেশ, ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যেই শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত বিএলএ–২ এবং বুথ সভাপতিদের নিয়ে বুথভিত্তিক ‘ভোট রক্ষা কমিটি’ গঠন করার নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে একাধিক জায়গায় দলের ওয়্যার রুমের ঠিকমতো কাজ করছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। নাম না করে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, “আপনাকে যদি কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয় আর আপনি ভাবেন কাজ না করলেও চলবে, সে আপনি বিধায়ক হন বা সাংসদ, তাহলে ভুল করছেন। নিজের দায়িত্ব পালন না করলে দল আপনার পাশে দাঁড়াবে না।”

সূত্রের খবর, সাংসদদের উদ্দেশে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে অভিষেক বলেন, সংসদের অধিবেশনে এক–দু’দিন উপস্থিত থেকে বাকি সময় নিজের নিজের এলাকায় থাকতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, আত্মতুষ্টি বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কোনও জায়গা নেই। যাঁরা ‘ধীরে চলো’ নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাঁদের বলছি, ঘুম থেকে উঠুন। দিল্লি আর হরিয়ানায় যা হয়েছে, বাংলাতেও সেটাই করার চেষ্টা হবে।

ফর্ম ৭ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, তৃণমূলের সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে একাধিক জায়গায় বিজেপির তরফে একসঙ্গে বহু ফর্ম জমা দেওয়ার চেষ্টা ধরা পড়েছে। সূত্রের খবর, তিনি বলেন, “হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে যেমন হয়েছিল, বাংলাতেও একই কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা সতর্ক ছিলাম বলেই ধরতে পেরেছি।” বাঁকুড়ায় দলের কর্মীরা একাধিক জায়গায় এই ধরনের চেষ্টা প্রতিহত করেছেন বলেও জানান।
অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, একসঙ্গে ১০টির বেশি ফর্ম জমা দেওয়া আইনত অপরাধ এবং এর জন্য সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। অথচ বিজেপির কর্মীরা বস্তাভর্তি ফর্ম নিয়ে ঘুরছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, দলের ওয়ার রুম সক্রিয় না থাকলে বিজেপি এই কাজ আরও জোরদার করবে।

বৈঠকে সাংসদদের উদ্দেশে আর্থিক দিক থেকেও দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেন অভিষেক। জানান, “দলের জন্যই আপনারা সাংসদ বা বিধায়ক হয়েছেন। মানুষের জন্য লড়াই করতে হলে প্রয়োজনে নিজের পকেট থেকেও খরচ করতে হবে।” একই সঙ্গে নাকি তিনি বলেন, তৃণমূল অন্য দলের মতো জনপ্রতিনিধিদের থেকে পার্টি ফান্ডে ৫০ শতাংশ দেওয়ার দাবি করে না।

যে সব এলাকায় লোকসভা সাংসদ নেই, সেখানে রাজ্যসভার সাংসদদের দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেন অভিষেক। সব মিলিয়ে, শনিবারের এই বৈঠকে স্পষ্ট— ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সংগঠনকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে কোনওরকম ঢিলেমির জায়গা রাখতে চান না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।




