Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Mamata Banerjee’হিংসার ঘটনা পরিকল্পিত, ধর্মের নামে ভুল প্রচার বহিরাগতদের’, মুর্শিদাবাদে বললেন মমতা ,দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও রাজনীতি নয়, মুখ্যমন্ত্রী

deshersamay

Share article:

মুর্শিদাবাদ  পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বললেন, হিংসার যে ঘটনা ঘটেছে তা পূর্বপরিকল্পিত। ধর্মের নামে কেউ কেউ ভুল কথা প্রচার করছে। তার জন্য মানুষ প্ররোচিত হচ্ছে। সেই কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। মমতার কথায়, মুর্শিদাবাদের আসল সত্য দ্রুত সামনে আসবে।

ওয়াকফ ইস্যুতে জেলায় তুমুল বিক্ষোভ হয়েছিল। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা থেকে শুরু করে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ঘর-বাড়ি ভাঙচুর, খুন… সব ঘটনার সাক্ষী থেকেছিল মুর্শিদাবাদ। অশান্তির পরিস্থিতির মধ্যেই জেলা পরিদর্শনে এসেছিল জাতীয় মানবাধিকার, মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা। গেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। কিন্তু সেই সময়ে মুর্শিদাবাদে যাননি মমতা। সোমবার জেলায় গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুললেন তিনি। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য একাধিক রাজ্যে নানা ঘটনা ঘটে। মণিপুর, রাজস্থান, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রের কোনও প্রতিনিধি যায়নি। তবে বাংলায় কিছু হলেই কেন একদিনের মধ্যেই সব চলে আসে, প্রশ্ন তাঁর। এই পরিপ্রেক্ষিতেই মমতার সাফ অভিযোগ, ”একেবার পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটনা হয়েছে। ধর্মের নামে কিছু বহিরাগতরা ভুল কথা ছড়িয়েছে। আর কিছু লোক প্ররোচিত হওয়ার ফলে এক গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীর গন্ডগোল লেগেছে।” যারা এই হিংসার ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাঁদের উদ্দেশে মমতার কড়া হুঁশিয়ারি, ”বাংলার মানুষ এসব বরদাস্ত করবে না।”

মুর্শিদাবাদের ঘটনা একটা বড় চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, তিনি কারও বিপক্ষে নন তবে ষড়যন্ত্র, দাঙ্গার বিরুদ্ধে। সাফ কথা, যারা দাঙ্গা লাগায় তারা বাংলার শত্রু। তিনি খোঁজ নিয়েছেন কারা মুর্শিদাবাদের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন। তাদের শাস্তি হবে, আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর আরও সংযোজন, যারা হিংসার ঘটনায়, সাম্প্রদায়িক হিংসায় যুক্ত থাকে তাদের তিনি অপরাধী বলেই মনে করেন। 

কোনও কোনও সংগঠন পরিস্থিতির ফায়দা নিয়ে হিংসা ছড়ায় বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর কটাক্ষ, কেউ কেউ ধর্মের নাম করে নিজেদের বড় নেতা মনে করে। রাজ্য সরকার কখনই কোনও রকম হিংসাকে প্রশ্রয় দেয় না। তবে কোনও সংগঠন এমন কাজ করলে তার দায় সরকারের নয়। স্পষ্ট জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মুর্শিদাবাদের নিহত পিতা-পুত্রের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণের ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের। কিন্তু বিজেপির তরফে আগেই নিরাপত্তার ইস্যু দেখিয়ে তাঁদের জেলা থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। মমতার প্রশ্ন, ”এটা কি অপহরণের ঘটনা নয়? আমরা এসে ক্ষতিপূরণেরই টাকা দিতাম। তার আগেই তুলে নিয়ে চলে যাওয়া হল।” 

যদিও মমতা আগেই জানিয়েছিলেন, মুর্শিদাবাদে গিয়ে হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। যারা আছে তাঁদের সঙ্গেই কথা বলবেন তিনি। ক্ষতিপূরণের টাকাও দেওয়া হবে। তবে কেউ তা না-নিলে তাঁর কিছু করার নেই। 

দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও রাজনীতি নয়। তৃণমূল এ সব বিষয়ে ভারত সরকারের পাশেই আছে এবং থাকবে। পহেলগাঁও নিয়ে আরও এক বার নিজের ও দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুর্শিদাবাদের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ডুমুরজোলা থেকে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

সোমবার মুর্শিদাবাদে যাওয়ার জন্য কপ্টারে চড়ার আগে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, ‘‘দেশে এখন যা চলছে, জাতীয় নিরাপত্তার যে ব্যাপার, আমরা বলেই দিয়েছি, তাতে আমাদের দল কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে থাকবে। কখনও ডিভাইড অ্যান্ড রুল করব না।’’ অর্থাৎ, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করতে চায় না তৃণমূল।

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক বাসিন্দার নাম ছিল। ওই ঘটনার পরের দিনই মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছিলেন মমতা। সূত্রের খবর, সেখানে সতীর্থদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘দেশের অত‍্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এটা। তাই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে আবেগে কোনও মন্তব্য করবেন না।’’ এর পর প্রকাশ্যেও পহেলগাঁও নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। বলেন, ‘‘আমি ভেবে পাচ্ছি না, এত ক্ষণ ধরে বেছে বেছে মারল! যেগুলো আমরা শুনতে পাচ্ছি, দেখতে পাচ্ছি…। ওখানে তো অনেক আর্মি (সেনা) ছিল। এমনিতে তো সীমান্ত এলাকা। স্পর্শকাতর এলাকা। যাই হোক, এ সব নিয়ে এখন কথা বলব না।’’


অভিযোগ, পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ধর্মপরিচয় জিজ্ঞাসা করে বেছে বেছে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ করেছে নয়াদিল্লি। সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানিদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আপাতত বন্ধ।

আকাশসীমাও বন্ধ করা হয়েছে দুই তরফে। পাকিস্তান প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। সংঘাতের আবহে আমেরিকা, রাশিয়া, চিন এবং ইউরোপের দেশগুলি ভারত-পাক উত্তেজনা কূটনীতির মাধ্যমে প্রশমনের বার্তা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে কেন্দ্রকে সহযোগিতা করার কথা জানালেন মমতা।

Advertisement
Tags: featuredNews

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন