‘পরিবেশ নষ্ট করে এমন মন্তব্য করবেন না, হিন্দুদের…’, ইউনূসকে সতর্ক করলেন মোদী !
থাইল্যান্ডে আয়োজন হয়েছে বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলন। যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী ছাড়াও এই সম্মেলনে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরীয় আর সকল দেশের রাষ্ট্র প্রধানদেরও। যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসও।
এই শীর্ষ সম্মেলনের মাঝেই শুক্রবার পার্শ্ব বৈঠক সেরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস।
গত বছরের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত এবং ইউনূস বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই নেতার মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক। বেজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার মধ্যে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক এবং গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ভারত। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিবেশ নষ্ট করে এমন যে কোনও বক্তব্য এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
https://x.com/narendramodi/status/1908113759073083548?t=_pnpnQbxt32F1KVxJ_MpEA&s=19
বলাই বাহুল্য, ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে চিনা অর্থনীতির বিস্তারের বিষয়ে ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর। গত সপ্তাহে চিন সফরকালে ইউনূস বাংলাদেশকে এই অঞ্চলে ‘সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক’ বলেছিলেন। ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি স্থলবেষ্টিত বলে দাবি করে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ছাড়া তাদের সমুদ্রে পৌঁছনোর উপায় নেই। তাই এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভারতের উত্তর পূর্বের সাত রাজ্যে তাদের অর্থনীতির বিস্তার ঘটাতে পারে বেজিং।
তাঁর মন্তব্য ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরে বাংলাদেশ দাবি করে ইউনূসের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ঢাকা তড়িঘড়ি ইউনূস এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে বৈঠকের জন্য নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
অন্য দিকে, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে ধারাবাহিক হামলার মুখে পড়েছেন সংখ্যালঘু হিন্দুরা। উত্থান ঘটছে ইসলামি কট্টরপন্থীদের। এই নিয়ে অতীতে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ঢাকা কখনও বলেছে, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের বিষয়টি সাম্প্রদায়িক নয়, রাজনৈতিক। কখনও বলেছে, এটা সম্পূর্ণই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তবে এ দিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভারত বিষয়টি এড়িয়ে যাবে না।
বিক্রম মিস্রি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের সমস্ত ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদন্ত করে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে, আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।’ বিক্রম মিস্রি আরও জানিয়েছেন, এ দিনের বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করে এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলার বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ ছাড়া বাংলাদেশী হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত, জানান মোদী।