Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

ফণা নামিয়ে ‘ফণী’ এখন বাংলাদেশ সীমান্তে,কলকাতা বিমানবন্দরের পরিষেবা স্বাভাবিক হল

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ রাত ১২: ৩০মিনিট নাগাদ ওড়িশা হয়ে এ রাজ্যে প্রবেশ করে ফণী। গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার। খড়্গপুরের বুকে শক্তিশালী ঝড় হিসেবেই আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি। সেখানে তাণ্ডব চালানোর পর হুগলির আরামবাগের দিকে অগ্রসর হয় সেটি।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানাযায়, কলকাতায় ফণী আসেনি, পাশ কাটিয়ে আরামবাগ, কাটোয়া হয়ে প্রবেশ করেছে নদীয়ায়। তারপর মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত পারকরার কথা এই ঘূর্ণিঝড়ের।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে নদিয়া, মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে যখন পৌঁছবে ফণীর শক্তি অনেকটাই কমে যাবে। রবিবার থেকে দুর্যোগ কাটবে রাজ্যে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, ফণীর প্রভাবে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় বৃষ্টি হবে। কোনও কোনও জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায়। শুক্রবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হয়েছে মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভুম, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে।


এ দিন সকালে ২২০ কিলোমিটার বেগে ওড়িশায় আছড়ে পড়ে ফণী। পুরী ও ভুবনেশ্বের ভয়ানক তাণ্ডব চালায়। ইতিমধ্যেই সে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
শুক্রবার সকালে ফণী স্থলভাগে প্রবেশের পরে উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে ফণী। এ রাজ্যে ঢোকার আগে থেকেই ফণীর প্রভাব পড়তে শুরু করে দিঘা, মন্দারমণি-সহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে। বিকেলের পর থেকে রাজ্যের উপকূল এলাকায় হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি। রাতে তা আরও বাড়ে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে বৃষ্টি।
দিঘায় সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। উপকূল ছাপিয়ে নীচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকতে শুরু করে সন্ধ্যার সময়। তাই আগে থেকেই ওই সব এলাকাগুলি থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূল এবং তার লাগোয়া এলাকা থেকে ২৩ হাজার ৬৮০, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ হাজার ৯৪৫, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৩ হাজার ৯৪৪, কলকাতা পুলিশ এলাকা থেকে প্রায় চার হাজার এবং ঝাড়গ্রাম থেকে ৮৫ জনকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিয়াশালার কুন্দরীশোল গ্রামে বাজ পড়ে ভৈরব সাউ নামে ১২ বছরের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে চারটি দোকান, ২৭টি মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝাড়গ্রামে ২০টি কাঁচা বাড়ি আংশিক ভেঙে পড়েছে। তবে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
তবে কলকাতাতে ফণীর জোরালো প্রভাব পড়েনি। আশঙ্কা করা হচ্ছিল কলকাতার উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাবে। রাতের দিকে ঝোড়ো হাওয়া বইলেও তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার। শহরের কিছু জায়গায় এর প্রভাবে গাছ উপড়ে পড়ে। হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাতভর প্রবল বৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে কলকাতা পুরসভা থেকে সব রকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়। শুক্রবার রাত থেকেই কলকাতার নানা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় সিইএসসি। রবিবার পর্যন্ত সংস্থার সিইএসসি-র সব ইঞ্জিনিয়ারের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত কর্তব্যরত থাকবেন বিদ্যুৎকর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারেরা।

তার ছিঁড়ে বা অন্য কোনও ভাবে তড়িদাহত হয়ে যাতে কোনও মৃত্যু না ঘটে তা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কলকাতার নানা জায়গায় ত্রাণ শিবিরও খোলা হয়। মেয়র ফিরহাদ হাকিম রাতে বিভিন্ন বরো অফিস, ওয়ার্ড অফিস ও ত্রাণ শিবির ঘুরে দেখেন। ফিরহাদ বলেন, ‘‘অনেক পুর আধিকারিকই রাত জেগেছেন। সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।শনিবার সকাল ৮টা থেকে কলকাতা বিমানবন্দর স্বাভাবিক হয়েছে বলে বিমান বন্দর সূত্রের খবর।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বনগাঁ সহ পেট্টাপোল সীমান্ত এলাকায় শনিবার সকালেও বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে।বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় আজ শনিবার সকালে দমকা হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়া ছাড়া বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন