ইরান এবং ইজ়রায়েল-আমেরিকা সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে অবশেষে যুদ্ধ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । বৃহস্পতিবার পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বিশ্বের অস্থিরতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যার সমাধান কোনও সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে সম্ভব নয়।’ দ্রুত যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সংলাপ এবং কূটনীতিই সংঘাত সমাধানের একমাত্র উপায়। শুধু ইরান যুদ্ধই নয়, ইউক্রেন সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী )। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সফররত ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের এই মনোভাব ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভারত মনে করে আইনের শাসন, আলোচনা ও কূটনৈতিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সংঘাত মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। পশ্চিম এশিয়া থেকে ইউক্রেন, সর্বত্র ভারতের এটাই অবস্থান, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী কোনও দেশের নাম নেননি। তবে মনে করা হচ্ছে তিনি আইনের শাসনের কথা বলতে গিয়ে ইরানের শাসন ব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করেছেন। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় সদ্য নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেইনির ধর্মের নামে একের পর এক ফতোয়ায় অতিষ্ঠ ছিল সেদেশের মানুষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের উপর হামলার যুক্তি দিতে গিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথাও বলেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাগাতার আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও বার্তা দিয়েছেন বলে কূটনৈতিক মহলের অভিমত। নিরস্ত্রীকরণ, বিশেষভাবে ইরানের পরমাণু অস্ত্র ভান্ডার নিয়ে সে দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা বিদ্যমান থাকাকালে ইজরায়েল প্রথম আক্রমণ করে। সঙ্গে সঙ্গে তাতে যোগ দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সামরিক সংঘাত সব সময় একমাত্র বিকল্প নয়। ভারত মনে করে আলোচনার মধ্য দিয়েই বিতর্ক গুলি সমাধান সম্ভব।

সৌদি আরব, ওমান, কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হেনেছে ইরান। ওই সব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। দিল্লির বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদী ইরানের নাম না করে ওই সব দেশে হামলার নিন্দা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ওই দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন।




