

কলকাতা : প্রায় পাঁচ দশক ধরে ছবি তুলে চলেছেন চিত্রসাংবাদিক অশোক মজুমদার।ক্যামেরা সাটারে তার আঙুলের স্পর্শ মানে নতুন কিছু। ছবি তোলা তার পেশা নয় বরং নেশা। তার ক্যামেরা শুধু মুহূর্তকে বন্দী করে না, গল্প বোনে।এত বছরের কর্মজীবনে হাজার হাজার ফ্রেম বন্দী হয়েছে তার ক্যামেরায়।

তার লেন্স বন্দি বঙ্গ জীবনের বিভিন্ন মুহুর্তের স্থির চিত্র এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে ‘ছবিওয়ালার গল্প’ শিরোনামে বইটি মঙ্গলবার বিকালে মন্দাস পাবলিকেশন দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হল কলকাতা প্রেসক্লাবে।
নক্ষত্র খচিত বাংলা জার্নালিজমের সমস্ত তারকারা এদিন উপস্থিত ছিলেন ‘ছবিওয়ালার গল্প’ বইটির প্রকাশ অনুষ্ঠানে।ছবিওয়ালার গল্প বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে বইমেলায় ।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন , চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, সাহিত্যিক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্যিক নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী, কুণাল ঘোষ, জয়ন্ত ঘোষাল, দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য, বিশ্ব মজুমদার, পুষণ গুপ্ত, তপন দাস, রঞ্জন সেন,কিংশুক প্রামাণিক, সুমন ভট্টাচার্য, স্নেহাশীষ সুর, গৌতম ভট্টাচার্য, হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুমন দে, সহ আরো অনেকে।

চল্লিশ বছরেরও বেশি সময়জুড়ে তোলা ১০১ টি বাছাই ব্যক্তি ও ঘটনার ছবি ও সেই ছবি তোলার গল্প ও অভিজ্ঞতা একত্রিত করে প্রকাশিত হয়েছে ছবিওয়ালার গল্প । সম্পূর্ণ রঙিন, বিদেশি আর্ট পেপারে ছাপা প্রায় ৫০০ পাতার এই অদ্বিতীয় সংকলন বঙ্গজীবনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের দলিল যা প্রকাশ করতে পেরে মান্দাসও গর্বিত।
বিশিষ্ট চিত্র সাংবাদিক অশোক মজুমদারের ক্যামেরার লেন্সে ধরা দিয়েছেন ইন্দিরা গান্ধী থেকে বারাক ওবামা; অমর্ত্য সেন থেকে স্টিভেন স্পিলবার্গ; পাশাপাশি ধরা পড়েছে রোজকার মানুষের দৈনন্দিন ওঠাপড়া ও বঙ্গজীবনের সামগ্রিক চালচিত্র ।

চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ বলেন স্টিল ফটোগ্রাফি এমন একটা মুহূর্ত ,অশোক সেই মুহূর্তগুলোকে ফটোগ্রাফির মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছে। মানুষকে দেখেছে, সমাজকে দেখেছে এবং একটা মুহূর্তকেই চিরস্থায়ী করে ধরে রেখেছে আর সেই মুহূর্ত যুগ যুগ ধরে এক স্মৃতি মালা তৈরি করেছে। তিনি বলেন ৭০ দশকের শেষ থেকে কিংবা আশির দশকের শুরু থেকে সারা পৃথিবীর গুণী মানুষের চিত্র এই গ্রন্থের মধ্যে ধরে রেখেছেন অশোক।

প্রাক্তন সাংসদ তথা সাংবাদিক কুণাল ঘোষ এই বইটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, “রিপোর্টারদের চেয়েও চিত্র সাংবাদিকদের কাছে অনেক বেশি না-বলা গল্প বা ‘আনটোল্ড স্টোরি’ থাকে। তাঁদের ছাড়া সাংবাদিকতা অসম্পূর্ণ।”

বিশিষ্ট সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষালের কথায় , ‘ছবিওয়ালা’ শব্দটির মধ্যে এক গভীর কাব্যিক ব্যঞ্জনা আছে এবং অশোক মজুমদার নিজে একজন দক্ষ লেখক। সুমন ভট্টাচার্য ও রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্পীর কাজের প্রতি প্যাশন বা ‘পাগলামি’র প্রশংসা করেন। নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, অশোকের ক্রমাগত উন্নতির প্রশংসা করেন এবং কলকাতার চিত্র সাংবাদিকদের ভারতের শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করেন পুষণ গুপ্ত।

নিজের বই প্রসঙ্গে অশোক মজুমদারের কথায়, জীবনের পথ চিনতে না পারলেও তাঁর ‘ছবিওয়ালা’ সত্তাই তাঁকে নিজের আসল রূপ চিনিয়েছে। সেই চেনার গল্পই এখন পাঠকদের ড্রয়িং রুমের সঙ্গী। ছবি তোলার আগে বা পরে যেসব ঘটনা থাকে সেই বিষয় নিয়েই এই বই।অনুষ্ঠান শেষে লেখক-চিত্রগ্রাহক বলেন, কোনওরকম ঝামেলা বা কোন সমস্যা সৃষ্টি হলে- সেই ঘটনার চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরতে ঘটনাস্থলে লড়াই করে চিত্র সাংবাদিকরাও। তবে তিনি জানান, আর কয়েকদিনের মধ্যেই চিত্র সাংবাদিকতা ছেড়ে এবার থেকে শুধু নাটকেই মনোযোগ দেবেন।




