“ঔদ্ধত্যই তৃণমূলের পতন ডেকে আনবে’, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে ফের তোপ মোদীর , কারা ‘অসম্মান’ করে, এই ছবিই তার প্রমাণ: ধর্নামঞ্চ থেকে পাল্টা আক্রমণ মমতার

0
16

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। অনুষ্ঠানের ঠিক আগে জায়গা বদল করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে শনিবার তোপ দেগেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । রবিবারও সেই সুর বজায় রাখলেন। দিল্লির মেট্রো করিডরের উদ্বোধন করে তৃণমূলকে একহাত নিয়ে মোদী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে নোংরা রাজনীতি করছে তৃণমূল । অহংকারই এদের পতন ডেকে আনবে।’

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘অভিমান’ ও প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । রবিবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রপতির আসার ব্যবস্থাপনায় তাঁর কোনও হাত ছিল না। পাল্টা প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ আমাদের দোষ দেবেন না। উদ্যোক্তারাই সব ঠিক করেছেন। আমি এখানে ধর্নায় বসে আছি। মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষার এই ধর্না ছেড়ে আমি যাব কী করে?” এই একই কথা শনিবারও বলেছিলেন মমতা।

এদিন মঞ্চ থেকে কেবল মুখেই জবাব দেননি মুখ্যমন্ত্রী, বরং বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধতে একটি পুরনো ছবি তুলে ধরেন তিনি। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর পাশে প্রধানমন্ত্রী মোদী বসে আছেন এবং তাঁদের এক পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই ছবি দেখিয়ে মমতা কটাক্ষ করে বলেন, রাষ্ট্রপতিকে আসলে কারা ‘অসম্মান’ করে, তা এই ছবিই বলে দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের এক নম্বর নাগরিককে কেন দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আর প্রধানমন্ত্রী কেন বসে থাকবেন?

একই সুরে এদিন মথুরাপুরের সভা থেকে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও । তিনিও মথুরাপুরের মঞ্চে ওই একই ছবি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগ তোলেন। অভিষেকের দাবি, বিজেপি  আসলে আদিবাসী দরদি হওয়ার নাটক করছে, অথচ বাস্তবে আদিবাসী রাষ্ট্রপতির প্রতি ন্যূনতম মর্যাদা দেখাচ্ছে না।

শনিবার শিলিগুড়িতে সাঁওতাল কনফারেন্সে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করে জানতে চেয়েছিলেন, মমতাদি কেন তাঁর ওপর রাগ করে আছেন? তারই জবাবে মমতা এদিন বুঝিয়ে দিলেন, ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম কাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘এসআইআর’ ইস্যু ফেলে তিনি প্রোটোকল পালন করতে যেতে পারেননি। তাঁর কথায়, “মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে, তাহলে কীসের ভোট?”

বস্তুত, এদিন রবিবাসরীয় দুপুরে দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে চুপ করে থাকেননি। ভরা জনসভা থেকে বলেন, রাষ্ট্রপতিকে অপমান মানে দেশের সংবিধানের অপমান। গণতন্ত্রের মহান পরম্পরার অপমান। দেশের সাঁওতাল জনজাতিদের অপমান। মহিলাদের অপমান। তাঁর কথায়, “একজন আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার এই নোংরা রাজনীতি আর ক্ষমতার অহঙ্কার চুরমার হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কোনওদিনও তৃণমূলের এই জঘন্য রাজনীতিকে ক্ষমা করবে না।”

এদিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বক্তৃতারই শেষ দিকে তিনি বলেন, “বড়ই উদ্বেগ আর খেদের সঙ্গে একটা ঘটনা আপনাদের জানাতে চাইছি। গোটা দেশকে জানাতে চাইছি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জি সাঁওতাল-আদিবাসী পরম্পরার অনেক বড় একটি উৎসবে সামিল হতে বাংলায় গিয়েছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ও তাঁর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে তৃণমূল ওই অনুষ্ঠান বহিষ্কার করে এবং রাষ্ট্রপতিকে বহিষ্কার করে”।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “রাষ্ট্রপতি সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ। সাঁওতাল ও আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। তৃণমূল যা করেছে তা শুধু দেশের রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা নয়, দেশের সংবিধানকেও অপমান করা হয়েছে”। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “অহঙ্কারে ডুবে থাকা ব্যক্তি যতই শক্তিশালী হোক, শেষমেশ নষ্ট হয়ে যায়”।

Previous article‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’ এই মন্ত্রকে সামনে রেখে রুটি মেকার দিদির ফ্রোজ়েন লুচি পারি দেবে বিদেশেও
Next articleসূর্যাস্তের মাঠেই সূর্যোদয় , নারী দিবসে ক্রিকেট যুদ্ধে ইতিহাস গড়ে বিশ্বজয়ী ভারত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here