

রাজনৈতিক মহলে বহুদিন ধরে চর্চা চলছিল ফের কি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক হাবরা থেকে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন? রবিবার সেই চর্চাকে আরও উস্কে দিলেন বিধায়ক নিজেই। ইতিমধ্যেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।

রবিবার হাবরা হাসপাতাল এবং হাবরার বিভিন্ন স্কুলের বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের শুভ সূচনা করেন হাবরার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। “আমার যদি কোনও অঘটন ঘটে তাহলে অন্যান্য যাঁরা থাকবেন তাঁরা সবাইকে নিয়ে হাবরার উন্নয়ন করবেন। বর্তমান পৌরসভার চেয়ারম্যান, ব্লকের সভাপতি এবং জেলা পরিষদের পদাধিকারীরা সকলকে নিয়ে হাবরাকে আরও উন্নততর করবে। অনেক কাজ এখনও বাকি আছে৷ তবুও ২০১১ সালের পর থেকে হাবরার মানুষকে বহু উন্নয়নমূলক কাজ উপহার দেওয়া হয়েছে।

হাবরার মানুষ শান্তি চায়। হাবরার মানুষের পালস আমরা বুঝি। তাই এবারও হাবরার মানুষ তৃণমূলকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করাবেন। আমি দলের অনুগত সৈনিক। আমার কাছে কোনও ব্যাপার নয়। দলটাই বড় ব্যাপার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলার মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। কথায় আছে যে যত বেশি পরিশ্রম করবে তার ফল পাবে।

” হাবরা বা অন্য কোনও জায়গা থেকে তিনি ভোটে দাঁড়াচ্ছেন কিনা, সাংবাদিকদের এহেন প্রশ্নের উত্তরে এমন কথাই বলেন বিধায়ক। এ দিন হাবরায় দাঁড়াচ্ছেন কি না প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি দল ঠিক করবে।’তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়।যদিও তাঁর মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

এ দিন জ্যোতিপ্রিয় আরও একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। হাবরার ওই অনুষ্ঠানেই তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন ‘ভোটের আগে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক টাকাও নেওয়া যাবে না।’ জ্যোতিপ্রিয় দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সময় জেলবন্দি ছিলেন। গত বছর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি ফের দলের কাজ শুরু করেছেন।

কিন্তু জল্পনা বাড়ছে, তাঁকে হাবরা থেকে টিকিট নাও দিতে পারে তৃণমূল। বাম আমল থেকেই গাইঘাটার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় ২০১১ সালে রাজ্যের পালাবদলের সময় থেকে হাবরা বিধানসভায় টানা তিনবার জিতেছেন। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ও বনমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।

এদিন বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক হাবরা হাসপাতালের ১২৫টি সিসিটিভি থেকে বাড়িয়ে ২০০টি সিসিটিভি, হাসপাতালে ভর্তি মহিলাদের মনোরঞ্জনের জন্য এলইডি টিভি, গরিব দুঃস্থদের জন্য হাসপাতালের নিজস্ব তিনটি অ্যাম্বুলেন্স, নতুন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট সহ বেশ কিছু পরিষেবার শুভ সূচনা করেন। সেই সঙ্গে হাবরা বিধানসভা এলাকার প্রত্যেকটি স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে পাখা এবং লাইট তুলে দেন।




