দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ এতদিন বাগযুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বুধবার তা নেমে এল রাস্তায়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের মুর্শিদাবাদ সফরে ডোমকলের কাছে জায়গায় জায়গায় জমায়েত হয়ে তাঁকে কালো পতাকা দেখাল তৃণমূল। ডোমকল হাসপাতাল মোড়-সহ একাধিক জায়গায় সকাল থেকেই জমায়েত করেছিল শাসকদল। কোথাও এর নেতৃত্বে ছিলেন জেলার নেতা, কোথাও আবার ব্লক সভাপতি। তাঁদের নেতৃত্বেই রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের যাত্রাপথে কালো পতাকা দেখাল বাংলার শাসকদল।

  • এর আগে রাজ্যপাল নিজেই জানিয়েছেন, রাজ্যপাল হিসাবে তিনি রাজ্যের দূরবর্তী প্রান্তে পৌঁছতে চান এবং সাধারণ মানুষের কথা শুনতে চান। তার মধ্যে প্রাসঙ্গিক অংশটুকু তিনি রাজ্য সরকারকে অবহিতও করতে চান।
  • সেই কারণেই তিনি সিঙ্গুর গিয়েছিলেন। উত্তর ২৪ পরগনায় বিএসএফের ১৪টি সীমান্ত চৌকি ঘুরে দেখেছেন।
  • ২০ নভেম্বর মুর্শিদাবাদে সেই সফরেরই অংশ।
  • বুধবার ডোমকল গার্লস কলেজের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনে গিয়েছেন রাজ্যপাল।


এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়েছেন ধনকড়। বুধবার ডোমকল গার্লস কলেজের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনে গিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজভবনের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছিল, রাজ্যপালের ৫০০ কিলোমিটার সফরের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু সরকার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কাছে কোনও হেলিকপ্টার নেই। ওই বিবৃতেই লেখা হয়, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান সিপিএম বিধায়ক আনিসুর রহমানের আমন্ত্রণে ধনকড়ের এই ডোমকল সফর। গত সপ্তাহে ফারাক্কা কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল।

ফারাক্কার কর্মসূচির সময়েও রাজভবন হেলিকপ্টার চেয়েছিল। কিন্তু তা তো সরকার দেয়নি উলটে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “রাজ্যপালের কেন হেলিকপ্টার লাগবে তা আমাদের জানতে হবে। এটা তো মানুষের টাকা!” কিন্তু এবার রাস্তায় নেবে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হল তৃণমূল। উল্লেখ্য, বুধবারই মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

রাজ্যপালের জেলায় জেলায় চলে যাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শাসকদলের নেতানেত্রীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোজাসুজি বলে দিয়েছেন ‘উনি বিজেপির পার্টি ম্যান!’ সংসদেও এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে নালিশ করেছেন তৃণমূল সাংসদরা।

কিন্তু তারপর রাজ্যপাল বলেছেন, “আমি সংবিধান মেনে বাংলার মানুষের জন্য কাজ করতে এসেছি। যেখানে ইচ্ছে যাব। এর জন্য রাজ্যের কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই।” এদিন দেখা গেল রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে রাস্তায় নামিয়ে দিল শাসকদল। এখন দেখার রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান এ নিয়ে কী বলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here