দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ শুক্রবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইন—কোনওটাই তাঁর মানবে না। বাংলায় এসব হবে না।

কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর নাগরিকত্ব আইনের বাস্তবায়ন করতে সব রাজ্য সরকারই বাধ্য। এ ব্যাপারে কোনও উপায়ন্তর নেই।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার আগেই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ জানিয়ে দিয়েছেন, নাগরিকত্ব আইন সমাজে বিভাজন তৈরি করবে। তাই তাঁদের রাজ্যে এই আইন বলবৎ হবে না।

এর পর শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ খুলেছেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেছেন, “আইন পাশ করলেই তো হল না। কার্যকর করবে তো রাজ্য সরকার। বাংলার সরকার ওই আইন কার্যকর করবে না, করবে না, করবে না!”

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি বাংলায় নাগরিকত্ব আইন মোতাবেক শরণার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না? নাকি তাঁরা এ দেশের নাগরিক বলে যখন শাসক দল বা সরকার জানিয়ে দিচ্ছে, তখন তা করার আর প্রয়োজন নেই। কেন না কেন্দ্র-রাজ্য এই দ্বৈরথ মানুষের মনে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে বলেই অনেকে মনে করছেন।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা মোদী সরকারের কোনও মন্ত্রী এখনও মুখ খোলেননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, নাগরিকত্ব আইন হল একটি কেন্দ্রীয় আইন। তাঁদের কথায়, সংবিধানের সপ্তম তফসিলে তিন ধরনের তালিকা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় তালিকা, যৌথ তালিকা ও রাজ্যের তালিকা। প্রতিরক্ষা, বিদেশ, রেল, নাগরিকত্বের মতো বিষয়গুলি কেন্দ্রের তালিকার অন্তর্গত। এ ব্যাপারে কেন্দ্রে নির্বাচিত সরকার যে আইন পাশ করাবে তা রাজ্যগুলিকে মানতে হবে। এই আইন মানব না বলার সাংবিধানিক অধিকার তাই রাজ্যের নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে।

রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, আসলে নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর ভীত তৃণমূল। ওদের তুষ্টিকরণের রাজনীতিটা আরও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে মানুষের সামনে। তাই এখন আইন মানব না বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, দিল্লি ও অসমে অমুসলমান শরণার্থীদের সংখ্যা সব থেকে বেশি। নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের পর এই রাজ্যগুলিতেই বেশি প্রভাব পড়ার কথা। এই রাজ্যগুলির মধ্যে একমাত্র অসমেই বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিতে ক্ষমতায় রয়েছে বিরোধীরা। জানা যাচ্ছে, পাঞ্জাব, কেরল ও পশ্চিমবঙ্গের পর এবার মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগড়ও জানিয়ে দিতে পারে যে তারা নাগরিকত্ব আইন মানবে না।


যতই আপত্তি থাকুক না কেন দেশের প্রতিটি রাজ্য নয়া নাগরিকত্ব আইন লাগু করতে বাধ্য। দেশের সংবিধান অনুসারে কোনও রাজ্য এই দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না। শুক্রবার এমনই জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here