দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ গঙ্গাসাগরের তীর্থযাত্রীদের জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার আট নম্বর লটে দশ শয্যা বিশিষ্ট একটি অস্থায়ী হাসপাতাল চালু করল ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ। হাসপাতালে জায়গা কম বলে যাঁদের অবস্থা গুরুতর নয় তাঁদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। সঙ্ঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ শনিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই হাসপাতাল উদ্বোধন করেন।

গঙ্গাসাগরে এসে কোনও তীর্থযাত্রী বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে খুবই সমস্যা হয়। কেউ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে তাঁকে দ্রুত কলকাতায় নিয়ে যাওয়া যায় সে জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স রাখা হয়েছে। অল্প অসুস্থদের জন্য মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সঙ্ঘকে সাহায্য করেছে পিয়ারলেস হাসপাতাল।

স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ বলেনন, গঙ্গাসাগরের তীর্থযাত্রীদের নানা সহযোগিতা করার জন্য সঙ্ঘের উদ্যোগে আড়াই হাজার স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন ঘাটে মজুদ আছেন। এর মধ্যে আট নম্বর লটে তিনশো জন স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। এছাড়া সঙ্ঘের গঙ্গাসাগর কার্যালয় থেকে তীর্থযাত্রীদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া এবং প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ রাজ্যে গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে প্রতি বছরই সারা দেশ থেকে তীর্থযাত্রীরা আসেন মকর সংক্রান্তিতে স্নান করতে। তাই প্রশাসনও তৎপর থাকে। নিরাপত্তা কঠোর করা হয়। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর জন্য অস্থায়ী শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

জনসমাগমের বিচারে ভারতের বার্ষিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নিরিখে গঙ্গাসাগর থাকবে একেবারে উপরের দিকে। পুণ্যস্নান হবে মকর সংক্রান্তিতে, তবে ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগর পুণ্যার্থীরা হাজির হতে শুরু করে দিয়েছেন। ১০ তারিখ আনুষ্ঠানিক ভাবে মেলা শুরু হয়ে গেছে।

মেলার জন্য নানা রঙের আলো দিয়ে মন্দিরগুলিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কপিলমুনির আশ্রম ঘিরেই সমস্ত ভিড় থাকে, কপিলমুনির কাহিনি সাধারণ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মডেল তৈরি করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেবদেবীদের মূর্তিও রয়েছে।

গঙ্গাসাগর নিয়ে একটি পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে। ভারতে সগর নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁর রানি সুমতীর গর্ভে ষাট হাজার পুত্রের জন্ম হয়েছিল, কেশিনীর গর্ভে জন্ম হয় অসমঞ্জসের। সগর রাজার অশ্বমেধ যজ্ঞ করবেন বলে ঠিক করেন। সেই ঘোড়ার সঙ্গে পাঠান তাঁর ছেলেদের। দেবরাজ ইন্দ্র সেই ঘোড়া চুরি করে কপিলমুনির আশ্রমে বেঁধে রেখে যান। রাজপুত্ররা ঘোড়া খুঁজতে খুঁজতে কপিলমুনির আশ্রমে এসে দেখতে পান। তখন কপিলমুনি ছিলেন গভীর ধ্যানে মগ্ন। রাজপুত্রেরা মুনিকে চোর ভেবে তাঁর উপরে চড়াও হওয়ার উপক্রম করেন। মুনি চোখ খুলে নিজের অপমান সহ্য করতে না পেরে ক্রুদ্ধ হন, তাঁর তেজে ভস্ম হয়ে যান সগরের ছেলেরা।

অসমঞ্জসের ছেলে অংশুমান কপিলমুনির কাছে এসে জানতে চান কী ভাবে তাঁর বাপ-কাকাদের বিদেহী আত্মা স্বর্গে যেতে পারবে। তখন স্বর্গের নদী গঙ্গাকে আনার কথা বলেন কপিনমুনি। অংশুমান তা পারেননি, তাঁর পুত্র দিলীপ মারা যান অল্প বয়সে। দিলীপের পুত্র ছিলেন ভগীরথ।

শাপমুক্তির উপায় জানতে পারেন ভগীরথ। পূর্বপুরুষদের উদ্ধার করতে তিনি তপস্যা করেন ব্রহ্মার। ব্রহ্মা সন্তুষ্ট হয়ে বর দিতে চান। গঙ্গাকে মর্ত্যে আনার বর চান ভগীরথ। তখন শিবের তপস্যা করার পরামর্শ দেন ব্রহ্মা। ভগীরথের তপস্যায় শিব সন্তুষ্ট হন। শিব বর দেন যে গঙ্গা মর্ত্যে নামলে তিনি তাঁকে জটায় ধারণ করবেন। তখন ভগীরথ গঙ্গার তপস্যা করেন। গঙ্গা সন্তুষ্ট হয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন কিন্তু শিবের জটাজালে আটকে যান। তারপরে ভগীরথ নতুন করে শিবের তপস্যা করে তাঁকে সন্তুষ্ট করে গঙ্গাকে তাঁর জটাজাল থেকে মুক্ত করেন। গঙ্গাকে পথ দেখিয়ে তিনি নিয়ে আসেন কপিলমুনির আশ্রমে। ভগীরথের পূর্বপুরুষদের উপর দিয়ে বয়ে যায় গঙ্গা। উদ্ধার হন তাঁর পূর্বপুরুষরা।

সেই কপিলমুনির আশ্রমই গঙ্গাসাগরের মূল তীর্থস্থান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here