দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ মহানাটকীয় বললেন যেন কম বলা হয়। আবার কারও কারও কাছে এ দৃশ্য হৃদয় বিদারকও বটে। গতকাল সকালে শোভন চট্টোপাধ্যায়, ববি হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র– চার হেভিওয়েট নেতাকে নারদ মামলায় গ্রেফতার করে সিবিআই। সন্ধের দিকে নিম্ন আদালতে জামিন মিললেও রাত এগারোটায় ফের মোড় ঘোরে, জামিন খারিজ হয় হাইকোর্টে। প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হয় চার জনকেই। আর তখনই দেখা যায়, প্রেসিডেন্সির বাইরে গেটের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্য-রাজনীতিতে শোভন ও বৈশাখীর কেমিস্ট্রি নিয়ে জল্পনা কম হয়নি গত এক বছর ধরে। স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ছেড়ে শোভন এখন বৈশাখীর সঙ্গেই থাকেন বলে জানা যায়। যদিও বৈশাখী এখনও শোভনকে তাঁর ‘বন্ধু’ বলে পরিচয় দিতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। সেই বন্ধুর জন্যই কার্যত কাতর হয়ে পড়েন বৈশাখী। তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, “আমাকে ঢুকতে দিন। একবার দেখা করতে দিন, ওঁকে অনেকগুলো ওষুধ খেতে হয়। নইলে মরে যাবে। কেউ জানে না ওঁর প্রবল সিওপিডি আছে।”

বৈশাখী কাঁদতে কাঁদতেই আরও অভিযোগ করেন, অন্যদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর দাবি. “অমানুষিক ব্যবহার করছেন। ওঁর (শোভনের) হাই সুগার তবু কিছু খেতে দেওয়া হয়নি।”

প্রেসিডেন্সি জেলের গেটে কার্যত ধাক্কা দিতে দিতে চিৎকার করতে থাকেন বৈশাখী। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “কী করছেন ওঁর সঙ্গে আপনারা, আমাদের ভিতরে ঢুকতে দিন, দেখা করতে দিন। আমরা ঢুকতে চাই, কেন ঢুকতে পারবে না শোভন চ্যাটার্জীর বাড়ির লোক আমি জানতে চাই। আই ওয়ান্ট টু নো। অনেক হয়েছে আপনাদের সকাল থেকে। এনাফ ইজ এনাফ। দরজা না খুললে আজ লাশ যাবে আমাদের আমি বলে দিচ্ছি।”
বৈশাখীর সঙ্গে এদিন ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে ঋষিও।

গতকাল সকাল সাড়ে নটা নাগাদ চেতলায় ববি হাকিমের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। নারদ মামলায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁকে নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়ার পরে দেখা যায়, সুব্রত মুখেপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকেও গ্রেফতার করে আনা হয়েছে সেখানে। কিছুক্ষণের মধ্যে নিজাম প্যালেসে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি দাবি করেন, এই গ্রেফতারি বেআইনি।


এর পরেই তৃণমূলের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক জড়ো হন নিজাম প্যালেসের বাইরে। সেখানে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে তাঁদের। ছোড়া হয় ইট, বোতল। এদিকে দুপুরে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে শুরু হয় ভার্চুয়াল শুনানি। দিনভর চলতে থাকে টানাপড়েন, সন্ধে সাতটা নাগাদ নিম্ন আদালতে জামিন মঞ্জুর হয় চার জনেরই। আপাত ভাবে মনে হয়েছিল, এ দিনের ঝড় বোধহয় থামল। তৃণমূলও ঘোষণা করে, তাদের নৈতিক জয় হয়েছে।

কিন্তু নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এবং গোটা দিনের ঘটনাক্রম বর্ণনা করে কাল রাতেই কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের আদালতে আবেদন জানায় সিবিআই, সেই মামলার রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছে, নিম্ন আদালতের রায়কে স্থগিত রাখা হল।  আগামী বুধবার মামলার শুনানি হবে। আপাতত বুধবার পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ববি হাকিম-সহ চার জনকে।


এসবের মধ্যেই পৌনে বারোটা নাগাদ ধৃত চার জনের শারীরিক পরীক্ষার জন্য এসে পৌঁছয় মেডিক্যাল টিম। তার পরে আরও গভীর রাতে অসুস্থ বোধ করেন মদন ও শোভন। শেষমেশ এসএসকেএম হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি করতে হয় তাঁদের। সুব্রতও অসুস্থ বোধ করলেও, ভর্তি করা হয়নি তাঁকে, চিকিৎসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here