দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে কলকাতার রাস্তায় বিরাট মিছিল করল সংখ্যালঘু সংগঠনগুলি। শুক্রবার দিনের ব্যস্ত সময়ে কার্যত অচল হয়ে গেল শহরের প্রাণ কেন্দ্র ধর্মতলা থেকে পার্ক স্ট্রিট। বিক্ষোভের আঁচ পড়ল জেলাতেও।

এদিন একাধিক ইসলামি সংগঠনের ডাকে নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসির বিরুদ্ধে মিছিল শুরু হয় টিপু সুলতান মসজিদের সামনে থেকে। পার্ক স্ট্রিট মোড় হয়ে মিছিল যায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত। সেখানে একটি সভাও হয়। বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের নেতারা।


এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন বাংলায় এনআরসি, ক্যাব কিছুই হবে না। অভয় দিতে গিয়ে মমতা আরও বলেন, “যতই আইন পাশ করুক। কার্যকর করবে তো সরকার। বাংলার সরকার ওই আইন কার্যকর করবে না করবে না করবে না।” মুখ্যমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। দুপুরেই রাস্তায় নামল সংখ্যালঘু সংগঠনগুলি।
শুধু কলকাতা নয়। বাংলার একাধিক জেলাতেও এই আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন সংখ্যালঘুরা। মুর্শিদাবাদ থেকে হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় চলছে বিক্ষোভ। মুর্শিদাবাদে সংখ্যালঘুদের অবরোধে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে থাকে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। উলুবেড়িয়াতেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত বলে খবর মিলেছে।
এদিন সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির নেতারা বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভারতের মুসলমানদের নিশানা করেছে। এই আইন সরাসরি মুসলমানদের বিরুদ্ধে। সংবিধানের তোয়াক্কা না করেই এই আইন পাশ করানো হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। সংগঠনগুলির যৌথ লিফলেটে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই আইন নতুন করে দ্বিজাতি তত্ত্বের ধারণাকে সামনে নিয়ে আসছে।

এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গান্ধী মূর্তির সভায় সংখ্যালঘু নেতারা জানান, আগামী দিনে আরও বড় আকারে এই আন্দোলন হবে। এদিনের কলকাতার মিছিলে মুসলিম মহিলাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here